শিরোনাম
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’ আঠারবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৬ জনের ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধুনটে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ,চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু লালমনিরহাটে যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ পাবনা আমিনপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
অন্যান্য

সাংবাদিককে কেন আইন জানতে হয় ?

সাংবাদিককে কেন আইন জানতে হয়

আইন সম্পর্কে সাংবাদিকদের কেন ধারণা থাকতে হয়, এর মজার একটা উদাহরণ দেই। এই টার্মটার নাম ‘ইন্নোয়েন্ডো’। ইন্নোয়েন্ডো এমন এক ধরনের উক্তি যা সাধারণভাবে মানহানিকর বলে মনে হয় না, অথচ তা মানহানিকার। অর্থাৎ, সাধারণভাবে চিন্তা করলে মানহানিকর মনে হয় না, কিন্তু অন্তর্নিহিত অর্থে মানহানিকর।

‘ক্যাসিডি বনাম ডেইলি মিরর’ মামলার উদাহরণ দিলে সহজে বুঝতে পারবেন। ১৯২৯ সালে ডেইলি মিরর পত্রিকায় “টুডে’স গসিপ” ট্যাগলাইনের এক কলামে মেক্সিকান আর্মির সাবেক জেনারেল ক্যাসিডির সঙ্গে একজন নারীর ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবিটির ক্যাপশনে বলা হয়: তারা পরস্পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন। অথচ তারা আগেই আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী।

ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ক্যাসিডির স্ত্রী মানহানির মামলা করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ওই ক্যাপশনের কারণে তার পরিচিতরা মনে করেছে এতদিন তিনি ক্যাসিডিকে বিয়ে না করেই একসাথে থেকেছেন। এতে তার সম্মানহানি হয়েছে। মামলার এজাহারে তিনি ‘ইন্নোয়েন্ডো’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “সাধারণ লোকজন ধারণা করেছে এতদিন আমরা অবৈধভাবে বসবাস করেছি।”

মিসেস ক্যাসিডি মামলায় জয়লাভ করেন। আদালত ডেইলি মিররকে ৫০০ পাউন্ড জরিমানা করে। তখনকার সময়ে এটি বড় অঙ্কের জরিমানাই ছিল।

তবে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে মানহানি মামলা অনেক ক্ষেত্রে টেকে না। সেক্ষেত্রে সাংবাদিককে এসব প্রমাণ করতে হয়:

১. যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি যা প্রকাশ বা প্রচার করেছেন তা সত্য এবং তা জনস্বার্থে, তবে এটি মানহানি হিসেবে গণ্য হবে না। শুধু সত্যতা প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়, জনস্বার্থও প্রমাণ করতে হয়।

২. যদি কোনো গণমাধ্যমে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে (যেমন: সরকারি কর্মকর্তার আচরণ, কোনো বই বা সিনেমার সমালোচনা) সৎ বিশ্বাসে নিজের মতামত প্রকাশ করেন, তবে তা মানহানি হবে না।

তবে এক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হয়: এটি একটি মতামত, কোনো তথ্য নয়। মতামতটি জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে ছিল। এটি সত্য তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। যেকোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তি এই ধরনের মতামত দিতে পারেন।

আমাদের দেশে তারকাদের নিয়ে প্রায়ই আজগুবি সব লেখা দেখা যায়। এগুলো স্পষ্টত মানহানি। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব “মানুষের আগ্রহ” হতে পারে, কিন্তু সাধারণত তা “জনস্বার্থ” নয়। আদালত জনস্বার্থের বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করে।

সাংবাদিকদের জন্য আরেকটি বিপদ হলো ‘প্রমাণের ভার’। ঐতিহাসিকভাবে, মানহানি মামলায় সাধারণত বিবাদীকে (গণমাধ্যমকে) প্রমাণ করতে হয় যে তাদের বক্তব্য সত্য ছিল। এটি গণমাধ্যমের জন্য একটি বড় চাপ, কারণ অনেক সময় সংবাদের উৎস প্রকাশ করা সম্ভব হয় না বা প্রামাণ্য দলিল সংগ্রহ কঠিন হয়।

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।