শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
বাছাইকৃত

ঈশ্বরগঞ্জে বাড়ছে সহিংসতা ও অনিরাপত্তা

একই দিনে দুটি পৃথক ঘটনা আমাদের সমাজের উদ্বেগজনক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে জাটিয়া ইউনিয়নের সাগুলি এলাকায় একটি পুকুরের পানির নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক তরুণের রহস্যময় লাশ। অন্যদিকে সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে সংঘর্ষ, যা শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্রের রূপ নিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে বাধ্য করেছে।

ঘটনা দুটি ভিন্ন হলেও একটি জায়গায় এসে মিলিত হয়—দায়িত্বহীনতা, অসচেতনতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের ক্রমাবনতি। একটি সমাজ তখনই সংকটে পড়ে, যখন কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না, যখন একটি পরিবারের সন্তান রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়, কিংবা যখন খেলাধুলার মতো আনন্দ ও সম্প্রীতির মাধ্যম সামান্য উত্তেজনায় সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ফুটবল খেলা নিয়ে মতবিরোধ, তর্ক-বিতর্ক বা প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধ যদি মারামারি, সংঘর্ষ ও রক্তপাত পর্যন্ত গড়ায়, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতারও প্রতিফলন। যে খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ শেখানোর কথা, সেটিই যদি প্রতিহিংসা ও শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়, তবে আমাদের সামাজিক শিক্ষার জায়গায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলেই ধরে নিতে হয়।

অন্যদিকে, একটি কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়। এমন ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের পক্ষ থেকে কিশোর-কিশোরীদের প্রতি আরও বেশি নজরদারি, সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ।

আজ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন সামান্য বিরোধ বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে, আর তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। প্রশ্ন হলো—আমরা কি সত্যিই আমাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করছি? আমরা কি আমাদের সন্তানদের সহনশীলতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে পারছি?

ঘটনা দুটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। যদি পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং স্থানীয় নেতৃত্ব নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে, তবে এমন মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে। একটি সভ্য সমাজের পরিচয় শক্তি প্রদর্শনে নয়, বরং সংযম, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক আচরণে। এখনই সময় সেই মূল্যবোধগুলোকে পুনরুদ্ধার করার।

বাছাইকৃত থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।