চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বাকশালের পতন দিবস উপলক্ষ্যে ‘আজাদীর কবিতা পাঠ’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চবি বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ, চবি আবৃত্তি সংসদের সদস্য ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একাধিক কবিতা পাঠ করা হয়।
কবিতা পাঠ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক তাহসান হাবিব, সদস্য সচিব তানিম মুশফিকসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের সদস্য এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির আহ্বায়ক তাহসান হাবিব বলেন, এ ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘদিন গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিল। এরপর মুক্তির জন্য ১৭৫৭ সাল থেকে আজাদীর লড়াইয়ে সামিল হয়ে বিভিন্ন ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি পেলেও তারা আবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে নিপীড়নের শিকার হয়। তারা যে স্বপ্ন নিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিল, তা অধরাই রয়ে যায়। ফলে আবারও শুরু হয় মুক্তিসংগ্রাম। নিজেদের অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে জীবনের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে তারা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড লাভ করে।
তিনি আরো বলেন, এতোদিন বিদেশি শক্তির হাতে নিজেদের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হলেও এবার তা স্বদেশিদের হাতে আবদ্ধ হয়। যে মানুষটার নেতৃত্বকে কবুল করে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সেই মানুষটাই নিপীড়ক হয়ে ওঠেন। বাকশালের নামে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলে এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেন। গড়ে তোলেন একক শাসনব্যবস্থা। রক্ষীবাহিনী দ্বারা হত্যা করেন সাধারণ জনতা এবং শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে। গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে স্বাধীনতার কণ্ঠরোধ করেন।
সংগঠনটির আহ্বায়ক আরো বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ জীবন দিয়েছিল, তা আবারও হারায়। যদিও প্রজন্মের কাছে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের কালো ইতিহাস উন্মুক্ত করা হয় না। অবশেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এ দেশে বাকশালের পতনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলার প্রথম ফ্যাসিজমের পতন ঘটে। তাই এই মুক্তির স্বাদকে উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা আয়োজন করেছি ‘বাকশালের পতন উপলক্ষ্যে আজাদীর কবিতা পাঠ’। যেখানে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, আবৃত্তি সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।