সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষকদের খুঁজতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সোয়া ৩টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চবি প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের গণমাধ্যমে উঠে আসা ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের অপতৎপরতা সংক্রান্ত একটি সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, চবি কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগ ও সতর্কতার সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডের শামিল। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হওয়া এবং শৃঙ্খলা বিরোধী তৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আর বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলা বিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ৫৫(৩) ধারা ও চিটাগং ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ (ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) স্ট্যাটিউটস অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ, অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ। যারা এরূপ কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত এই বিধি-বিধান এবং দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এরূপ কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত নিয়মে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করেছে।
ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য কারা?
৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আছেন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি চবির মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন। সদস্য সচিব করা হয়েছে চবির সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেনকে। আর সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।