চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মহান শহিদদের স্মরণে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ, স্মরণ, শিক্ষা ও প্রেরণা শীর্ষক আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন রাবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য ও চবির প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাইদ বিন হাবিব, চাকসু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, শাহ আমানত হলের জিএস আবিদুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী হলের এজিএস রেসালাত লিছানসহ চবি শিক্ষার্থীরা।
চবি অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথাগুলো বারবার আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কেননা এর চর্চা যত কম হবে, ততবেশি জুলাই হারিয়ে যাবে। আজ এখানে দাঁড়িয়ে আমাদের বক্তব্য রাখার কথা নয়, বেঁচে থাকলেও আয়নাঘরে থাকতে হতো। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই রাতে আমাদের বাসায় হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের ছাত্ররা আমাদের অপমানের বিরুদ্ধে অনেকবার দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা যখন আন্দোলন করেছে তাদের পাশে শিক্ষক সমাজের ততটা সাড়া পায়নি তারা।
তিনি আরো বলেন, ১৭ বছর ধরে ভারতীয় দাসত্বের শিকার হয়েছি। আধিপত্যবাদের নিষ্পেষণের আওয়াজ তুলেছে ওসমান বিন হাদি। ১৬ তারিখ শহিদ দিবস। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর ছিল উসমান বিন হাদি।
অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, জুলাইকে স্মরণ করা মানে শুধু একটি মাসকে স্মরণ করা নয়, বরং একটি আত্মত্যাগ ও বিপ্লবের চেতনাকে স্মরণ করা। এই বিপ্লবই আমাদের নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে। যতদিন আমরা এই বিপ্লবের আদর্শ, চেতনা ও মূল্যবোধকে ধারণ করব, ততদিনই আমরা সত্যিকারার্থে বেঁচে থাকব।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আন্দোলনে চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছিল শহিদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও উমর ফারুকের শাহাদাত। একই দিনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আবু সাইদের আত্মত্যাগের খবর সারা বাংলাদেশের মানুষের সাহস ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেদিন রাতে জায়নামাজে সেজদায় পড়ে আল্লাহর কাছে আমরা আমাদের এই শহিদ ভাইদের শোক সইবার সাহায্য চেয়েছি। ১৬ জুলাই ছিল এমন একটি দিন, যেদিন শিক্ষার্থীরা শুধু আন্দোলন করতেই নয়, প্রয়োজনে শহিদ হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
তিনি আরও বলেন, ১৬ জুলাই আমাদের জন্য ছিল এক কঠিন ও স্মরণীয় দিন। সেদিন আমি ছাত্রশিবিরের চবি শাখার দপ্তর সম্পাদক হিসেবে এবং শাখা সেক্রেটারির সঙ্গে সমন্বয় করে জনশক্তি পাঠানোর দায়িত্ব পালন করি। দিনের বেলায় শৃঙ্খলা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন আমাদের সদ্য বিদায়ি সেক্রেটারি পারভেজ ভাই। আর রাতে সেই দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়। অন্যদিকে আমাদের তৎকালীন অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভাই ছিলেন সম্মুখ সারিতে, আন্দোলনের অগ্রভাগে।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।