কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সরকারি সড়ক দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়ায় দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, উপজেলার রমনা ইউনিয়নের চিলমারী-গাইবান্ধা সড়কের মালেক মোড় চৌরাস্তা এলাকায় আব্দুল হান্নান তার ভগ্নিপতির জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি সংযোগ সড়কের ওপরই নির্মাণকাজ শুরু করেন। এতে মাওলানা ভাসানী সেতুর সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথটি সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নির্মাণকাজে বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে মঙ্গলবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশ অমান্য করে পরদিন বুধবার পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।
বিষয়টি পুনরায় উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে বুধবার বিকেলে ইউএনও মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সরকারি রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ এবং প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি নির্মাণকাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অবৈধভাবে নির্মিত অংশ অপসারণেরও নির্দেশ দেন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে শত শত মানুষ চলাচল করে আসছেন। রাস্তার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ইউএনওর কার্যকর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, “কারও চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়নি। সরকারি রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে সরকারি রাস্তা দখলের প্রবণতা কমবে এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হবে।




এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।