কুড়িগ্রামের উলিপুরে হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঐ মাদরাসার মুদাররিসসহ (কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানকারীকে মুদাররিস বলা হয়, শিক্ষক না) দুই জনকে আসামী করে উলিপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ৩০ জুন/২০২৬ ইং দিবাগত রাতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাজির মসজিদ সংলগ্ন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসায়।
আসামীরা হলো ঐ মাদরাসার মুদাররিস সহিদুল ইসলাম (৪০) ও উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে রাকিব (১৯)। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত আসামীরা গ্রেফতার হয়নি। এদিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাগড়াকুড়া বাজার এলাকার আনু মিয়ার ছেলে রাকিব উক্ত মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের কিশোরী শিক্ষার্থী মুন্নী আক্তারের (১৭) (ছন্দনাম) সাথে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে আসে। সেই সুবাদে গত ৩০ জুন বিকালে রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে কাজির মসজিদ সংলগ্ন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসায় আসতে বললে প্রেমিকের ডাকে সে সেখানে আসে এবং মাদরাসার একটি শ্রেণি কক্ষে উভয়ে প্রেমাল্লাপ করে ।
এক সময় প্রেমিক যুগলকে মাদরাসায় দায়িত্বে থাকা মুদাররিস সহিদুল ইসলামের (৪০) নজরে আসা মাত্রই সেখানে যায়। প্রেমিক রাকিব তাকে নিজেদের পরিচয় দেন এবং রাতেও সেখানেই অবস্থান করেন। পরবর্তীতে রাত গভীর হলে ওই মুদাররিস প্রেমিক-প্রেমিকার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাকিবকে শ্রেণি কক্ষেই ঘুমাতে বলে শিক্ষার্থী মুন্নিকে মাদরাসার অফিস কক্ষে নিয়ে যায়।
এরপর অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে লম্পট মুদাররিস তাকে চর থাপ্পর মেরে জোর পূর্বক ধর্ষণের (জোরপূর্বক যৌন সহবাস) চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় মেয়েটির আত্মচিৎকারে রাকিব দ্রুত ছুটে এসে মুদাররিস সহিদুলের হাত থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। লম্পট মুদাররিসের এহেন আচরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার কথা রাকিবকে জানালে তাকে সান্ত্বনা দেন এবং সে নিজেই তাকে (ভিকটিমকে) বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে রাতভর ধর্ষণ করে।
পরদিন সকালে শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। এরপর ভিকটিমের স্বজনরা ন্যায়বিচার চেয়ে স্থানীয় মাতাব্বর ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিচার দিলে তারা বিচার না করে বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের পরিবারের উপর চাপ এবং কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে ধর্ষিতার নানা বাদী হয়ে গত শনিবার (৪ জুলাই/২০২৬ইঙ) রাকিব ও সহিদুল ইসলামকে আসামী করে উলিপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিৎ করেন এবং ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। সেই সাথে আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।




এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।