নোবিপ্রবিতে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি, শান্ত করলেন শিক্ষামন্ত্রী
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ সহ ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিতে প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে স্লোগান, পাল্টা স্লোগান, তর্ক-বিতর্ক এবং পরে হাতাহাতি শুরু হলে অনুষ্ঠানস্থলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী বক্তব্য শুরু করার পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নোবিপ্রবির একাডেমিক ভবন-৩ সহ চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রকল্পগুলো সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হস্তান্তরের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা “এক দুই তিন চার, আর্মি হবে ঠিকাদার” স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিকে, ওই স্লোগানের পাল্টা হিসেবে অডিটোরিয়ামে উপস্থিত নোবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়, যা দ্রুত ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে অনুষ্ঠানস্থলে হট্টগোল তৈরি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য আলোচনা সভার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতাহাতির একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর সামনে দাবি উত্থাপনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে অডিটোরিয়ামের ভেতর থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের আরও সুশৃঙ্খল আচরণ করার নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি তাঁর বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ বলেন, “সেখানে কোনো মারামারি বা ঝগড়ার ঘটনা ঘটেনি। আমাদের দাবি স্পষ্ট ছিল; আমরা তাঁদের বলছিলাম, তোমাদের যদি কোনো দাবি থাকে, তবে তা সরকারের একজন মন্ত্রীকে যেভাবে দেওয়া উচিত, সেভাবে স্মারকলিপি আকারে দাও। এর পরও তারা স্লোগান দিতে থাকে, তবে আমরা তাদের কোনো বাধা সৃষ্টি করিনি। এটা তাদের গণতান্ত্রিক চর্চা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এখানে কারও গায়ে হাত তোলা হয়নি। উল্টো কয়েকজন এসে ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করছিল। আমরা গিয়ে বুঝিয়েছিলাম যেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। আমাদের বাধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলে তারা যখন প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে ঢুকছিল, তখনই বাধা দিতাম।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
এছাড়াও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।