যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের বিশুদ্ধ পানীয় জলের একমাত্র উৎস কয়েকজন প্রভাবশালী দখলদার অবৈধভাবে বাঁওড়টি দখল করে মাছ চাষ করছেন, ফলে পানির মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে সরকারি জলাশয়টি দখল করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তারা পানিতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার, জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা পানির গুণগত মান নষ্ট করছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির উৎসটি ধীরে ধীরে দূষিত হয়ে পড়ছে।
পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাওড়ে মাছ চাষ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে তিন গ্রামের মানুষ আবারও আর্সেনিকসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাজগঞ্জ বাঁওড় শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। কয়েকজন দখলদারের স্বার্থে হাজার হাজার মানুষের বিশুদ্ধ পানির অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে না। আমরা দ্রুত বাঁওড়টি দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ বালা বলেন-পুটখালী বাঁওড়ের একটি অংশ তিনটি গ্রামের মানুষের বিশুদ্ধ পানির জন্য সংরক্ষিত। ওই অংশে মাছ চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন-সরকারি জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে কেউ মাছ চাষ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে রাজগঞ্জ বাঁওড়কে অবিলম্বে দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। তাহলে তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ ও আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।




এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।