শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
ভারত

বর্ডার পুশ-ইন বিজিবি’র কড়া নজরদারি

পুশ-ইন বলতে বোঝায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী BSF (Border Security Force) কর্তৃক সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের (প্রধানত বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন) যাচাই-বাছাই বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই জোর করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে পাঠানো।

বাংলাদেশের বিজিবি এটিকে “অবৈধ পুশ-ইন” বলে অভিহিত করে। ভারতীয় পক্ষ এটিকে পুশ-ব্যাক  বা আইনি প্রক্রিয়ায় অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হিসেবে বর্ণনা করে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫-২০২৬):

২০২৫ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২,৩০০-২,৪৮০ জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে বলে BGB-এর অভিযোগ। 

জুন ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহে একক দিনে একাধিক চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে (৮-১০টি ঘটনায় ৬০-২০০+ লোক)

এটি শুধু সীমান্তে নয়, দূরবর্তী রাজ্য (আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ইত্যাদি) থেকে লোকজনকে সীমান্তে নিয়ে এসে ঠেলে দেওয়া হয়।

কেন?

প্রধান কারণসমূহ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অভিবাসন নীতি: বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে (বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ নির্বাচনের পর) “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” নীতি জোরদার হয়েছে। NRC (National Register of Citizens) ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় সন্দেহভাজন “বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী”দের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

অবৈধ অভিবাসনের চাপ ভারতে শ্রমের চাহিদা থাকলেও রাজনৈতিকভাবে এটি বড় ইস্যু। বাংলাভাষী মুসলিমদের অনেককে “অবৈধ” বলে চিহ্নিত করা হয়।

দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার ঘাটতি: আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই (nationality verification) প্রক্রিয়া ধীরগতির বা জটিল। ভারত অভিযোগ করে বাংলাদেশ যাচাইয়ে বিলম্ব করে।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্বেগ: সীমান্ত অপরাধ, অনুপ্রবেশ, মানব পাচার ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

ভারতের অবস্থান: এটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো, কোনো “পুশ-ইন” নয়।

বাংলাদেশের অবস্থান: এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির (১৯৭৫ গাইডলাইন, ২০১১ CBMP) লঙ্ঘন।

কীভাবে? 

দূরবর্তী এলাকা থেকে আটক করে প্রিজন ভ্যান/বাস/ট্রাকে করে সীমান্তে নিয়ে আসা।

রাতের অন্ধকারে বা নির্জন স্থানে (যেমন: খাগড়াছড়ি, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট, ঝিনাইদহ ইত্যাদি) সীমান্তের “জিরো লাইন” দিয়ে ঠেলে দেওয়া।

কখনো গেট খুলে বা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে জোর করে পার করানো হয়।

প্রভাবিত এলাকা: ২৬-৩২টি জেলার সীমান্ত (মোট ৪,০৯৬ কিমি সীমান্তের বিভিন্ন অংশ) BGB-এর প্রতিক্রিয়া: টহল জোরদার, স্থানীয় জনগণ ও আনসারকে সম্পৃক্ত করে চেষ্টা ঠেকানো, ফ্ল্যাগ মিটিং, চিঠি (১২টির বেশি) এবং কূটনৈতিক প্রতিবাদ। জুন ২০২৬-এ ঢাকায় BGB-BSF ডিরেক্টর জেনারেল লেভেল টকসে এটি প্রধান আলোচ্য বিষয়। মানবিক প্রভাবপড়ে নারী-শিশুসহ অনেকে নির্যাতনের শিকার, পরিচয় সংকট (কেউ ভারতীয় নাগরিক দাবি করেন)। কূটনৈতিক প্রভাবে সম্পর্কে চাপ, সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি।

মানবাধিকার: অ্যামনেস্টি ও HRW-এর মতে এটি “collective expulsion” এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। আনুষ্ঠানিক যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার ও দ্রুত করা। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি কঠোরভাবে অনুসরণ।

মানবাধিকার নিশ্চিত করে সমাধান। সীমান্তবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধি। পরিস্থিতি গতিশীল। সাম্প্রতিক BGB-BSF সম্মেলনের ফলাফল এই ইস্যুর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।