এটি পরিকল্পিত উসকানি ও নারী অবমাননা— বলছে সচেতন নারী মহল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সুবিধায় বিভিন্ন স্থানে আলাদা ছাত্রী কর্নার প্রতিষ্ঠা করায়— ছাত্রী কর্নার, পর্দা ও তাদের ধর্মীয় অনুশীলনকে উপহাস করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এবং এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে এই ক্ষোভের সূচনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। তিনি আইন বিভাগের ২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। এরআগে তিনি চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানকে ‘ছাত্রী কর্নার’ বানানোর কথা উল্লেখ করে নারীদের সেইভজোন তথা পর্দাবৃত স্থানে থাকাকে উপহাস করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধ ধারণকারী ছাত্রীদের নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, ওই পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, কাঁটা পাহাড় রাস্তা, শাটল ট্রেন ও শ্রেণিকক্ষে পর্দা টাঙানোর বিষয়কে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরে লেখা হয়, ‘এভাবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘ছাত্রী কর্নারের’ আওতায় আনা গেলে পর্দা করতে সুবিধা হবে।’
পর্দা নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাকিফ রহমান দাবি করেন, তার দেওয়া পোস্টটি সম্পূর্ণ স্যাটায়ারধর্মী ছিল। এটিকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে পর্দার বিরোধী নই এবং ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতিও আমার কোনো বিরূপ মনোভাব নেই। এখানে ইসলাম বিদ্বেষের কিছু দেখছি না।
তিনি আরো যোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে কেউ চাইলে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারবে, আবার কেউ ব্যক্তিগতভাবে তা অনুসরণ না করলেও তাকে বাঁধার মুখে পড়তে হবে না।
পোস্টটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা তাদের পোশাকের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষার্থী বলেন, কোনো নারী শিক্ষার্থী পর্দা করবেন কি করবেন না, সেটি তার ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকারকে প্রকাশ্যে উপহাস করা শুধু অসৌজন্যমূলক নয়, বরং এটি ক্যাম্পাসে বিদ্বেষ ও বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা। বিশেষ করে একজন ছাত্ররাজনীতির কর্মীর কাছ থেকে এমন বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা আরও উদ্বেগজনক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মত ও বিশ্বাসের বহুত্ববাদী জায়গা। এখানে কেউ ধর্ম পালন করলে তাকে কটাক্ষ করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা ভবিষ্যতে বড়ো ধরনের অসহিষ্ণুতা তৈরি করতে পারে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন নারী মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেতে কেউ যদি নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক, পর্দা বা ধর্মীয় চর্চা নিয়ে বিদ্রুপ করে, তাহলে তা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না। বরং এটি পরিকল্পিত উসকানি ও নারীদের অবমাননার শামিল।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে ধর্মীয় স্বাধীনতা, পোশাকের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে উপহাস করে বিভেদ তৈরির চেষ্টা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।