শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল বয়স ও দীর্ঘ শিক্ষকতা অভিজ্ঞতাকে যোগ্যতার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করানো সময়োপযোগী নয়। ১২ বা ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়ায় তরুণ শিক্ষকরা বেশি আবেদন করেছেন—এটিকে দুর্বলতা নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে তরুণ প্রজন্ম দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী।
এই যুক্তি যে, “সিনিয়র শিক্ষকরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো করবেন না”—এটি যদি সত্য হয়, তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে: দক্ষতা, আপডেটেড জ্ঞান ও নেতৃত্বের সক্ষমতায় কারা এগিয়ে? অভিজ্ঞতা মূল্যবান, কিন্তু অভিজ্ঞতা নিজেই দক্ষতার নিশ্চয়তা নয়। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর, গবেষণাভিত্তিক ও ফলাফলকেন্দ্রিক—যেখানে তরুণ শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে বেশি প্রস্তুত ও গতিশীল।
তরুণদের নেতৃত্বে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে—এই আশঙ্কা আসলে মানসিকতার সমস্যা, বাস্তবতার নয়। বয়স কম মানেই নেতৃত্বের ঘাটতি—এমন ধারণা আধুনিক ব্যবস্থাপনা দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বরং যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও গতি দুটোই বাড়ে।
আরেকটি যুক্তি দেওয়া হচ্ছে—কম বয়সীদের অধীনে সিনিয়র শিক্ষকরা কাজ করতে বিব্রতবোধ করবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা, নাকি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিষ্ঠান? পেশাদার পরিবেশে বয়স নয়, পদ ও দায়িত্বই মুখ্য। এই মানসিকতা বদলানোই সময়ের দাবি।
শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাড়ানোর চিন্তা মানে কার্যত তরুণদের জন্য দরজা সংকুচিত করা। এতে নেতৃত্বে নতুন ভাবনা, উদ্ভাবন ও সংস্কারের সুযোগ নষ্ট হবে। বরং অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ই হওয়া উচিত নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি।
সারকথা, শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এগিয়ে নিতে হলে বয়সভিত্তিক ভীতি নয়, যোগ্যতাভিত্তিক সাহসী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তরুণদের আস্থা দিলে তারা প্রমাণ করবে—নেতৃত্ব বয়সে নয়, সক্ষমতায়।




এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।