রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। অবশেষে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে রাজশাহীর প্রথম ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার’। মহানগরীর পুরাতন সার্ভে ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নান্দনিক এই মিনারটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা।
নির্মাণ শৈলী ও ব্যয়
রাজশাহী জেলা পরিষদের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বিশাল স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি ও প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম গোলাম আরিফ টিপু এই মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
কেন এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার?
রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ছিল একটি সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের। স্থানীয় বাসিন্দা মিলনের মতে, “এতদিন রাজশাহীর সাধারণ মানুষকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে রাজশাহী কলেজে যেতে হতো। সেখানে ভিড় আর জায়গার অভাবে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো। এই শহীদ মিনারটি হওয়ায় সেই ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি এটি আমাদের একটি বড় অর্জনের প্রতীক হয়ে থাকবে।”
উদ্বোধন নিয়ে সবশেষ তথ্য
রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা জানান, সোমবার পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন মহান ভাষা দিবসেই (২১ ফেব্রুয়ারি) শহীদ মিনারটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রচারণার বিষয়টি জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবেন।
প্রত্যাশার প্রতীক
নগরবাসী ও বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কেবল একটি স্থাপনা নয়; বরং এটি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদনের মূল আকর্ষণসমূহ (একনজরে):
- স্থান: পুরাতন সার্ভে ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণ, রাজশাহী।
- জমির পরিমাণ: প্রায় ১ একর।
- নির্মাণ ব্যয়: ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০।
- বর্তমান অবস্থা: নির্মাণ সম্পন্ন, উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।