শিরোনাম
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’ আঠারবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৬ জনের ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধুনটে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ,চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু লালমনিরহাটে যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ পাবনা আমিনপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
জাতীয়

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সুনাম রক্ষায় সার্টিফিকেশন জালিয়াতি রোধে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর গভর্নিং বডির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এটি এনএসডিএ’র গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা। এর আগে সর্বশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ একটি শক্তিশালী ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই কর্তৃপক্ষের গুরুত্বও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের চাহিদা ব্যাপক হলেও দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার কারণে কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে দক্ষতা উন্নয়নের সকল উদ্যোগই ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ ধরনের জালিয়াতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘চাকরিদাতারা যেন বলতে পারেন—বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা নিশ্চয়ই ভালো কাজ করবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনএসডিএ কর্তৃক সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ সার্টিফিকেশন জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া। এক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে। সভায় জানানো হয়, এই ব্যবস্থা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে, সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্পখাতের শ্রমচাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তি উন্নয়নে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনএসডিএ’র দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ সভায় অনুমোদন করা হয়। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে—উদীয়মান খাতে স্কিলস গ্যাপ এনালাইসিস পরিচালনা, সকল উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো (BNQF) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জনবলকে পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতির মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।

অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে (আইএমটি) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি (CDC) প্রদান সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।