ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর আলিম মাদরাসায় দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জাল বা অসত্য সনদের মাধ্যমে শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি)-এর কাছে পাঠানো সনদ শনাক্তকরণ প্রতিবেদনে এ অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি এনটিআরসির সদস্য (যুগ্ম সচিব) মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ এমপিওভুক্ত সব শিক্ষকের নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্র ও এমপিও শিট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নান্দাইল উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জাহাঙ্গীরপুর আলিম মাদরাসাও শিক্ষকদের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এনটিআরসিতে পাঠায়।
প্রতিবেদন যাচাইয়ে দেখা যায়, মাদরাসার শরীরচর্চা বিষয়ের শিক্ষক নাসরিন ইসরাত জাহান ২০১৫ সালের ১০ মে এনটিআরসির তালিকাভুক্ত হয়ে যোগদান করলেও তাঁর নিবন্ধন তথ্য অনলাইনে মিলছে না। নিবন্ধন নম্বর ১২২১০১০২ দিয়ে অনুসন্ধান করলে অন্য একজনের—মিসেস মিনারা ইয়াসমিনের—নাম পাওয়া যায়। অথচ ইসরাত জাহান প্রতি মাসে অন্তত ৩৫ হাজার টাকা বেতনে প্রায় ১১ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন এবং এতদিন কোনো ধরনের জবাবদিহিতার মুখোমুখি হননি। এমনকি নিয়মিত অডিটেও বিষয়টি ধরা পড়েনি।
এ ছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের আরবি বিভাগের শিক্ষক শাহনাজ পারভিনের নামও এনটিআরসির অনলাইন নিবন্ধন তালিকায় পাওয়া যায়নি। তাঁর নিবন্ধন নম্বর ১৬৪০৫২৯ দিয়ে অনুসন্ধান করেও কোনো নাম পাওয়া যায়নি।
এই তথ্যগুলো উল্লেখ করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। তিনি বলেন, “যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই এনটিআরসিতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এতদিন কীভাবে ওই দুই শিক্ষক চাকরি ও বেতনভাতা গ্রহণ করেছেন—এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এভাবে যাচাই করে দেখা হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে ইসরাত জাহান বলেন, “এটা ভুল হয়েছে। অনেক আগেই নাম সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। এখন কী হয়, দেখা যাক।” এতদিন কীভাবে বেতন নিয়েছেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগে তো কোনো সমস্যা ছিল না।” অপরদিকে শাহনাজ পারভিন দাবি করেন, “অনলাইনে নাম না আসা বড় কোনো বিষয় না। সব ঠিক হয়ে যাবে।”
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দপ্তরে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাগজপত্র সংরক্ষণ থাকে না। প্রতিষ্ঠানই সব কাগজপত্র দেখভাল করে।” প্রতিবছর অডিটে বিষয়টি ধরা পড়েনি কেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা অডিট সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন।”






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।