অদম্য বালু উত্তোলনকারী শক্তিশালী সিন্ডকেট এর বিরুদ্ধে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাধের ডাম্পিংকৃত ব্লক তুলে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বর্ষা মৌসুম আসার আগেই নদের ডান তির রক্ষা বাধ ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পার্শ্ববর্তি এলাকার বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া টিবাধ জকরিটারী এলাকায় কালিরকুড়া টি বাধ সংলগ্ন নদে ডাম্পিং করা সিসি ব্লক উঠিয়ে নিয়ে কয়েকটি অবৈধ বালুর পয়েন্টের যানবাহন চলাচল করার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নদের ডাম্পিংকৃত ব্লক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা ও বালু উত্তোলন বন্ধের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের কড়াল গ্রাস থেকে চিলমারীকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে নদের ভাঙ্গন রোধকল্পে ডানতীর রক্ষা বাধের পিচিং নির্মাণে ব্লক ডাম্পিং করা হয়। উক্ত প্রকল্পের আওতায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট নয়াবশ এলাকা থেকে রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ বাজারের ভাটি পর্যন্ত ডান তির রক্ষা বাধ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হয়। একটি অর্থান্বেষি প্রভাবশালী মহল অবাধে ড্রেজার সম্বলিত বাল্কহেড দিয়ে বালু উত্তোলন করে জমজমাট ভাবে অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছুদিন বালু বিক্রি বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডকেট বালুর ব্যবসায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের জকরিটারী এলাকায় কালিরকুড়া টিবাধের ডাম্পিং করা সিসি ব্লক নদী থেকে উত্তোলন করে বালু ব্যাবসায়ী সিন্তিকেটরা নিজ নিজ পয়েন্টে গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেন। জকরিটারী এলাকার আলেয়া বেগম, আফরোজা খাতুন, জয়গুন বেগম, আবেদা বেগম, আমিনা, রুপালি, আনিছা, জয়গুন, মুক্তা, লুৎফা বেগম সহ অনেকে বলেন, যেভাবে নদী থেকে ব্লক তুলে রাস্তা করা হচ্ছে তাতে ডানতীর আর রক্ষা হবে না। তারা আরও জানান,গত রাতে তারা সারারাত বালুর গাড়ী পাহাড়া দিয়েছেন। এলাকাবাসী সহিদুর রহমান, আ.মজিদ, সুকেরু মিয়া, মনজু মিয়া, বিপুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, হারুন মিয়া সহ অনেকে জানান, বালুর গাড়ী পয়েন্টে আসতে বাধা দেয়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, রেজাউল করিম, লিটন মিয়া, মাসুদ রানা, রাজু খন্দকার, মনু মিয়া ও ফাসকুরুনী সহ অনেকে এসব পয়েন্টের বালু ব্যবসায়ের সাথে জড়িত । এলাকাবাসীরা আরও বলেন, গত কয়েক দিন তারা রাত জেগে পাহাড়ার মাধ্যমে বালু বিক্রির বিরুদ্ধে এলাকার শতাধিক নারী,পুরুষ বাধা প্রদানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। উপায়ান্তর না পেয়ে এলাকাবাসীরা অবৈধভাবে নদী প্রতিরক্ষা বাধের ব্লক নদী হতে উত্তোলন করে বালুর পয়েন্টের রাস্তা তৈরীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক এর নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিও সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, এলাকাবাসীর আবেদন পেয়েছি। ব্লক এবং বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ যাথযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।