ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে দীর্ঘদিনের যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা ও পৌর প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার সংলগ্ন কিশোরগঞ্জ–ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং হাসপাতাল রোডের দুই পাশজুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত এ অভিযান ঈশ্বরগঞ্জে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযানের সার্বিক সমন্বয় ও নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌর প্রশাসক সালাহউদ্দিন বিশ্বাস। এ সময় সরেজমিনে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান।
পৌর বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং উচ্ছেদ কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাজার সমিতির সভাপতি একেএম হারুন-অর-রশিদ। এছাড়াও পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
অভিযানের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক ছিল ব্যবসায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা। প্রশাসনের উদ্যোগ শুরুর আগেই এবং অভিযান চলাকালীন সময়ে অনেক ব্যবসায়ী নিজ দায়িত্বে তাদের মালামাল ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেন, ফলে উচ্ছেদ কার্যক্রম সহজ ও দ্রুততর হয়। ব্যবসায়ীদের এই দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহউদ্দিন বিশ্বাস সন্তোষ প্রকাশ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈশ্বরগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যবৃন্দ এবং ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল মোতায়েন ছিল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান ও পৌর প্রশাসক সালাহউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, “পৌরবাসীকে যানজটমুক্ত শহর উপহার দেওয়া এবং বিশেষ করে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নির্বিঘ্ন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রমাণ করে—সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরাও একটি সুন্দর ও শৃঙ্খলিত শহর চায়। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চালু থাকবে।”






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।