বগুড়ার ধুনটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মিলন মিয়ার বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে টাকার ও বিড়ির বিনিময়ে ভোট প্রার্থনার দৃশ্য দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের হটিয়ারপাড়া গ্রামের চুনিয়াপাড়া এলাকায় মিলন মিয়া ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
ঘটনার দিন ফেসবুকের “ভোটের হাট” নামের একটি পেজে প্রকাশিত ৫৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মিলন মিয়া ও তার সহযোগীরা বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ গোলাম মো. সিরাজের ছবি সংবলিত লিফলেট নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ভোট চাইছেন। এ সময় কয়েকজন কৃষককে বিড়ি ও টাকা দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে মিলন মিয়াকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা তো ভোট দেবেনই, তারপরও আপনাদের সঙ্গে সালাম বিনিময়ের জন্য এসেছি। বাড়ির টুকটাক সমস্যা দেখা হবে। আমরা বগুড়ার মানুষ—ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করছেন।
নির্বাচনী আচরণবিধির ১৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কাজ করা কেউ নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন না। এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, গণভোটের আড়ালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে মিলন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল গণসংযোগ করতে গিয়েছিলেন। তার হাতে মিল্ক ক্যান্ডি ছিল, সেটিই তিনি একজনকে দিয়েছিলেন। ভিডিওটি তার নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হলেও পরে তা এডিট করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, লিফলেটগুলো পুরনো ছিল।
ধুনট উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ এ.কে.এম তৌহিদুল আলম মামুন বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতিলতা বর্মন বলেন, ভিডিওটি তার নজরে আসেনি। তবে ভিডিওটি সত্য কিনা এবং এতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।