শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
দুর্নীতি

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে টিআর-কাবিটা প্রকল্পে দুর্নীতির আখড়া: কাগজে গরু আছে, গোয়ালে নেই

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পে কাজ নামমাত্র বা একেবারেই হয়নি, কিন্তু বরাদ্দকৃত অর্থের বেশিরভাগ বা পুরোটাই উত্তোলন করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রবল হয়েছে।

উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১ম, ২য় ও ৩য় কিস্তিতে বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলোতে এমন অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাজহানুর রহমানের দায়িত্বকালে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিযোগের উদাহরণ:

ভোটমারী ইউনিয়ন ১ নং ৮ নং ওয়ার্ডে খান্নুনের বাড়ি থেকে নুরইসলাম মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ১০০ মিটার এইচবিবি (হার্ড ব্রিক ব্লক) রাস্তা নির্মাণে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ। কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। মজার বিষয়, ওই স্থানে পূর্বের একটি এইচবিবি রাস্তা ছিল, যা দেখিয়ে নতুন বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা হয়েছে।

মদাতী ইউনিয়ন ২ নং তালুক শাখাতী হযরত আলী রাহমাতুল্লাহ হাফিজিয়া মাদরাসা সংস্কারে টিআর কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ। কাজ হয়েছে নামমাত্র। পরের অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) একই প্রতিষ্ঠানের নাম সামান্য পরিবর্তন করে (তালুক শাখাতী হযরত আলী (রাঃ) কওমী মাদরাসা) ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কাজ আবারও নামমাত্র। প্রতিষ্ঠানটি পরিত্যক্ত বলে সভাপতির বক্তব্য।

মদাতী ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড হেতেনের বাড়ির তিপুতি থেকে ব্রাহ্মণপাড়া কালীমন্দির পর্যন্ত ৪৩০ মিটার রাস্তা সংস্কারে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ। কোনো কাজ হয়নি, কিন্তু বিল উত্তোলন হয়েছে।

গোড়ল ইউনিয়ন: গোড়ল দাখিল মাদরাসা উন্নয়নে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ। কাজ হয়েছে মাত্র ১০টি টিন ও ৬টি চিকন সিরি দিয়ে একটি চালা নির্মাণ। বাকি টাকা সংশ্লিষ্টদের পকেটে গেছে।

গোড়ল ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ড ভাল্লাটারী থেকে সিএমএস স্কুল পর্যন্ত ৭৫০ মিটার রাস্তায় মাটি কাটার কাজে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ। টাকা উত্তোলন হলেও কোনো কাজ হয়নি।

এসব প্রকল্পে কোথাও অর্ধেক বা তারও কম কাজ হয়েছে, কোথাও কোনো অস্তিত্বই নেই। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এতে দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের উন্নয়নের সুযোগ হারাচ্ছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে।

এ ধরনের অনিয়ম বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে দেখা যায়, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (পিআইও, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসন) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে যাতে এসব প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।

দুর্নীতি থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।