শিশুদের ওপর যৌন শোষণ ও যেকোনো ধরণের হয়রানি প্রতিরোধে অভিনব ও কার্যকর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উন্নয়ন সংস্থা এ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)। সংস্থাটির ‘প্রেমতলী ডুমুরিয়া সোশালিজেশন সেন্টার’-এর উদ্যোগে স্থানীয় তিনটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে পর্যায়ক্রমে প্রেমতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, প্রেমতলী জসিম উদ্দিন মাদ্রাসা এবং গুনিগ্রাম হাই স্কুলে এই বক্সগুলো হস্তান্তর ও স্থাপন করা হয়।
প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
সংশ্লিষ্টরা জানান, “স্টেপিং আপ দ্য ফাইট অ্যাগেইনস্ট সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অব চিলড্রেন (SUFASEC – Down to Zero Alliance)” প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে বিশেষ সহযোগিতা করছে নেদারল্যান্ডসের ডাচ মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স এবং নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘ফ্রি আ গার্ল’ (Free a Girl)।
গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ
এসিডি-র প্রতিনিধিরা জানান, সামাজিক লোকলজ্জা বা ভয়ের কারণে অনেক শিশু ও কিশোরী যৌন হয়রানি বা শোষণের শিকার হয়েও মুখ খুলতে সাহস পায় না।
- পরিচয় গোপন: শিক্ষার্থীরা এই বক্সের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করেই অভিযোগ জমা দিতে পারবে।
- নিয়মিত তদারকি: এসিডি-র দক্ষ প্রতিনিধিরা নিয়মিত এই বক্সগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন।
- সহযোগিতা: প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাউন্সিলিং প্রদান করা হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকগণ। গুনিগ্রাম হাই স্কুল ও প্রেমতলী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, “স্কুলে অভিযোগ বক্স স্থাপনের ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। এটি একটি নীরব সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে, যা সম্ভাব্য অপরাধীদের মনেও ভীতির সৃষ্টি করবে।”
এসিডি-র এই কার্যক্রম ডুমুরিয়া অঞ্চলের শিশু সুরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।




এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।