বগুড়ার ধুনট উপজেলায় হঠাৎ করেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এতে গৃহস্থালি কাজে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি চরম বিপাকে পড়েছেন হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে হয়রানি ও জরিমানা বন্ধের দাবিতে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের একটি ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সারাদেশের মতো ধুনটেও সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলন বন্ধ থাকার ঘোষণায় সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলাররা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন না। সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তারাও গ্রাহকদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে একদিকে গ্রাহক, অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতা—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সরেজমিনে ধুনট উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার নেই। দোকানগুলোতে কেবল খালি বোতল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর কোথাও সিলিন্ডার মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। কোথাও ১ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ধুনট বাজারে বর্তমানে একটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।
মথুরাপুর বাজারের ক্রেতা রাশেদুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার তার বাসার গ্যাস শেষ হয়। বুধবার সারাদিন বিভিন্ন দোকানে ঘুরেও সিলিন্ডার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে একটি দোকান থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সুমুনুল হক বলেন, “আগে যে সিলিন্ডার ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতাম, এখন সেটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। তাও আবার সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের জন্য এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সত্যিই কষ্টকর।”
গোসাইবাড়ী বাজারের তাহসিন ইলেক্ট্রনিকস অ্যান্ড গ্যাস কর্নারের প্রোপ্রাইটর শামীম তালুকদার জানান, যমুনা গ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও সরবরাহ নিয়মিত নয়।
ধুনট উপজেলার বিএম-এর এজেন্ট ও ইছামতী এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর নাছিম বলেন, প্রতিদিন তার চাহিদা প্রায় ১০০ বোতল হলেও কোম্পানি থেকে তিনি পাচ্ছেন মাত্র ২০ থেকে ২৫ বোতল। পাইকারিতে প্রতিটি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ টাকায়।
এ সংকটের প্রভাব পড়েছে উপজেলার হোটেল ব্যবসাতেও। রাহাত হোটেলের ম্যানেজার রাশেদ বলেন, “১৪শ থেকে ১৫শ টাকায় গ্যাস কিনে হোটেল চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় গ্যাস পাওয়াই যায় না।”
উপজেলার মথুরাপুর ও চৌকিবাড়ি ইমগাছি,কালেরপাড়া,চিকাশী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। দোকানগুলোতে কেবল খালি সিলিন্ডার পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতিলতা বর্মন বলেন, বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ ইচ্ছামতো দাম বাড়ালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট ও দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চলছে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নিলে ভোক্তাদের হটলাইনে অভিযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।