শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
চিত্র বার্তা

সবুজের আড়ালে লুকানো ইতিহাস: এক পরিত্যক্ত ‘নিসেন হাট’-এর গল্প

শহুরে কোলাহল ছেড়ে খানিকটা দূরে গেলেই 

মাঝেমধ্যে এমন কিছু দৃশ্যের দেখা মেলে, যা আমাদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। ঘন লতাপাতা আর বড় বড় গাছের মায়াবী ছায়ায় ঢাকা তেমনই এক জরাজীর্ণ ঘর। অর্ধবৃত্তাকার ছাদ আর নোনা ধরা দেয়াল নিয়ে ঘরটি যেন কোনো এক পুরনো স্মৃতির অ্যালবাম থেকে উঠে আসা ছবি।

​স্থাপত্যবিদ্যার ভাষায় একে বলা হয় ‘নিসেন হাট’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দ্রুত ব্যবহারের জন্য তৈরি এই ঘরগুলো এক সময় সারা বিশ্বেই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বাংলাদেশেও বিশেষ করে পুরনো চা-বাগান বা নিভৃত পাহাড়ি জনপদে এখনো এর দেখা পাওয়া যায়। তবে ছবিতে দেখা যাওয়া এই ঘরটি যেন একটু বেশিই নিঃসঙ্গ।

​

​ঘরটির সামনে দাঁড়ালে চোখে পড়ে এর অদ্ভুত নির্মাণশৈলী। হালকা নোনাধরা নীলচে-সবুজ রঙের দেয়াল, যা সময়ের করাল গ্রাসে এখন ফ্যাকাশে। মাঝখানে একটি কাঠের দরজা আর তার দুই পাশে দুটি জানালা—একদম নিখুঁত জ্যামিতিক নকশা। ছাদের ওপর দিয়ে নুয়ে পড়া গাছের ডালগুলো ঘরটিকে যেন পরম মমতায় আগলে রেখেছে। মেঝের ইটে জমেছে কালো শ্যাওলার আস্তরণ, যা এই পরিত্যক্ত ঘরটিকে দিয়েছে এক ধরণের ‘সিনেমাটিক’ আমেজ।

​

​মানুষ এখানে এখন আর থাকে না, রাজত্বটা এখন শুধুই প্রকৃতির। জানালার শার্শিতে রোদের খেলা আর চারপাশে বুনো গাছপালার ভিড় ঘরটিকে এক রহস্যময় রূপ দিয়েছে। ঘরটির শান্ত শীতল ভাব দেখে মনে হয়, এটি যেন কোনো এক মায়াবী নিস্তব্ধতাকে ধারণ করে আছে।

​

​আধুনিক ইট-পাথরের বহুতল ভবনের ভিড়ে এমন ঘরগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। স্থপতিদের মতে, এই ধরণের স্থাপনাগুলো কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, এগুলো একটি বিশেষ সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও ঘরটি তার অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে সগৌরবে।

​প্রকৃতি আর মানুষের তৈরি কাঠামোর এমন মিতালি সচরাচর চোখে পড়ে না। এই একলা ঘরটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পরিত্যক্ত হওয়ার মধ্যেও এক ধরণের আভিজাত্য থাকে, থাকে অমোঘ এক মুগ্ধতা।

চিত্র বার্তা থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।