ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে একসঙ্গে পাঁচটি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এক রাতেই কৃষকের গোয়ালঘর খালি হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি পড়েছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার চরহোসেনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার (২৬ আগস্ট) ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী তানজিরুল হক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পশ্চিম পাশে থাকা গোয়ালঘরের দরজার তালা ভেঙে গভীর রাতে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা। পরে গোয়ালঘরে থাকা পাঁচটি গরু নিয়ে যায় তারা। চুরি যাওয়া গরুর মধ্যে রয়েছে তিনটি গর্ভবতী গাভী, একটি মাটিয়া-কাজলা রঙের গরু ও একটি ছোট বাছুর। সবগুলো গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কৃষকের কাছে গরু শুধু গবাদিপশু নয়, পরিবারের সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের ভরসা। বছরের পর বছর পরিশ্রম করে একটি গরু লালন-পালন করেন কৃষক। কেউ জমি বন্ধক রেখে, কেউ ধারদেনা করে, আবার কেউ সংসারের খরচ বাঁচিয়ে গরু পালন করেন। সেই গরুই যখন রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যায়, তখন শুধু একটি প্রাণী হারায় না—হারিয়ে যায় পরিবারের সঞ্চিত মূলধন, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা।
বিশেষ করে তিনটি গর্ভবতী গাভী হারানোর ঘটনায় ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি। এসব গাভী থেকে ভবিষ্যতে বাছুর পাওয়ার পাশাপাশি দুধ বিক্রি করে নিয়মিত আয় করার সুযোগ ছিল। ফলে চার লাখ টাকার সরাসরি ক্ষতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আয়ের পথও সংকুচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী তানজিরুল হক বলেন, গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে গরুগুলো চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গরুগুলো উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, গরু চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এক রাতেই গোয়ালঘরের তালা ভেঙে পাঁচটি গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো চোরচক্রকে শনাক্ত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
কৃষকদের ভাষ্য, একটি গরু হারানো মানে অনেক সময় একটি পরিবারের কয়েক বছরের সঞ্চয় হারানো। তাই গরু চুরির ঘটনাকে শুধু সাধারণ চুরি হিসেবে না দেখে কৃষকের জীবিকা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।




এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।