চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নদীপথে সারাদেশে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে লাইটার কার্গো জাহাজ খাত এখনো একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটটি আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কিছু রাজনৈতিক নেতা, পণ্যের এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জাহাজের সিরিয়াল, ভাড়া ও ডেমারেজ নিয়ন্ত্রণ করছে।
২০২৪ সালের পর কিছু প্রভাবশালী আওয়য়ামী ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার হলেও সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভাঙেনি। এর ফলে প্রকৃত জাহাজ মালিকরা ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছেন, প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া, বহু জাহাজ বিক্রি বা স্ক্র্যাপ করতে হয়েছে, শ্রমিকরা বেকার হয়েছেন এবং বাজারে কৃত্রিম পণ্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়গুলো
১) লাইটার কার্গো জাহাজকে ভাসমান গোডাউন বানানো
২) নিয়ম অনুযায়ী ৮–১১ দিনে পণ্য খালাস হওয়ার কথা, কিন্তু ১০–১১ মাস পর্যন্ত জাহাজ আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।
৩) ডেমারেজ ও ভাড়া বাবদ বকেয়া প্রায় ৫০০ কোটি টাকা
৪) ২০১৮–২০২৩ সময়কালের ২১১ কোটি টাকা পরিশোধের চুক্তি হলেও বাস্তবায়ন হয়নি।
৫) নীতিমালা অমান্য ও সিরিয়াল বাণিজ্য
৬) নিয়ম মেনে থাকা জাহাজ ২–৩ মাসে এক ট্রিপ পায়, আর অবৈধ জাহাজ মাসে ৩–৪ ট্রিপ চালায়।
৭) বকেয়া টাকায় এজেন্টদের নিজের জাহাজ তৈরি
৮) জাহাজ মালিকদের টাকা পরিশোধ না করে সেই টাকা দিয়ে এজ।
এ ব্যাপারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (শিপিং) কমডোর মো. শফিউল বারী Publicvoice24 কে জানান, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইংল্যান্ড ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগাং (আইভোয়াক) ও কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এবং বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভোয়া)-র মধ্যে যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে সে চুক্তি আইভোয়াক মানেনি। কোয়াব ও বিসিভোয়া আইভোয়াকের কাছে ২১২ কোটি টাকা দাবি করে। সে টাকা তো ডিজি শিপিং বা সরকার আদায় করে দিতে পারবে না। পণ্যের এজেন্টরা পণ্য পরিবহনের আগে ডিজি শিপিং-এর কাছ থেকে এনওসি নেয়নি। পণ্যের এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আইভোয়াক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন। তাদের সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন নেই।
তিনি তার বিরুদ্ধে বিডব্লিউটিসিসি পরিচালনায় পণ্যের এজেন্ট ও আওয়ামী সিন্ডিকেটের সদস্য হাজী শফিক আহমেদকে কনভেনার বানানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিসিভোয়ার লোকজন আমার কথা শোনে না। যে সব নেতা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তারা নিজেরাই ডিজি শিপিংয়ের দেওয়া ৯টি আদেশ অমান্য করেছেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্টা করেছি এজন্য তারা আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।
তিনি বলেন, তাদের দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য আমি যখন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণে জাহাজী অ্যাপ চালু করার কথা বলছি, এরপর তারা আবার পেছনে লাগছে। এখন পণ্য পরিবহনে প্রত্যেক টনে দুই টাকা করে পায়। এতে মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আদায় হয়। এই টাকা আত্মসাতের জন্য তারা জাহাজী অ্যাপ চালু করতে দেয় না।
তিনি আরো জানান আওয়ামী লীগের সময় যারা দুর্নীতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট তৈরি করেছিল সেই সিন্ডিকেট এখনো চালু আছে, এর সত্যতা তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙতে চেয়েছিলাম। চিটাগাং পোর্টের একটা সিদ্ধান্তের কারণে ভাঙতে পারিনি। কোনো পদক্ষেপ নিলে তারা টাকা দিয়ে সবাইকে কিনে পদক্ষেপ বন্ধ করে দেয়। স্বার্থের বেলায় তারা সবাই এক। তাদের কাছে অনেক অবৈধ টাকা। ন্যায়ের পক্ষে কোনো পদক্ষেপ নিলে তারা টাকা দিয়ে সব ব্যবস্থা করে ফেলে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।