শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
শিক্ষা

নিজের জমানো টাকা, তবু নেই হিসাব—ঋণ তো দূরের কথা!

একজন চাকরিজীবী ব্যাংকে গেলেই ব্যাংক তাকে ঋণ নিতে আহ্বান জানায়। কারণ, তার আয় আছে, আর ব্যাংক জানে—মানুষের জমা অর্থ অর্থনীতিতে ব্যবহার করেই মুনাফা অর্জন করা যায়।

কিন্তু দেশের লাখো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

চাকরি জীবনের প্রতিটি মাসে তাঁদের বেতনের ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। বলা হয়, এটি তাঁদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য—৬ শতাংশ অবসর সুবিধা বোর্ডে, ৪ শতাংশ কল্যাণ ট্রাস্টে জমা হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে অর্থ একজন শিক্ষক নিজের কষ্টার্জিত বেতন থেকে বছরের পর বছর জমা রাখছেন, সেই অর্থের প্রকৃত হিসাব কি তিনি জানেন?

দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ শিক্ষক জানেন না তাঁদের নামে মোট কত টাকা জমা হয়েছে। বেতন স্লিপে মাসিক কর্তনের অঙ্ক থাকলেও আজীবনের মোট সঞ্চয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। অনলাইনে নিজের ব্যালেন্স দেখার সুযোগ নেই। যেন নিজের টাকাই নিজের কাছে অদৃশ্য!

এর চেয়েও বড় প্রশ্ন—নিজের জমাকৃত অর্থের বিপরীতে একজন শিক্ষক কেন কোনো ঋণ সুবিধা পাবেন না?

ব্যাংক অন্যের আমানতের বিপরীতে ঋণ দেয়। কিন্তু শিক্ষক নিজের অর্থ জমা রেখেও জরুরি প্রয়োজনে সেই অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করতে পারেন না। সন্তানের উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়ি নির্মাণ কিংবা অন্য কোনো সংকটে নিজের জমানো অর্থ থেকেও কোনো সহায়তা মেলে না।

অথচ অবসরের পর সেই অর্থ তুলতেও শুরু হয় নতুন দুর্ভোগ। বছরের পর বছর ফাইল ঘুরে, আবেদন পড়ে থাকে, শিক্ষককে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের প্রাপ্য অর্থ পেতেও যেন এক অনন্ত অপেক্ষা।

এই বাস্তবতার কারণেই ২০২৪ সালে হাইকোর্ট অবসর ও কল্যাণের অর্থ ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন এবং ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে আনুপাতিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও মত দেন।

সরকারও সংসদে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের জট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এখনও হাজার হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

শিক্ষক সমাজের দাবি খুব বেশি নয়। তাঁরা চান—

প্রতি মাসের বেতন স্লিপে অবসর ও কল্যাণ তহবিলে কর্তনের পরিমাণের পাশাপাশি মোট জমাকৃত অর্থ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হোক।

প্রত্যেক শিক্ষক অনলাইনে নিজের তহবিলের পূর্ণ হিসাব দেখতে পারবেন।

নিজের জমাকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিপরীতে স্বল্পসুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ চালু করা হোক।

অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পরিশোধ করা হোক, যাতে কাউকে নিজের প্রাপ্য টাকার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে না হয়।

একজন শিক্ষক সারাজীবন অন্যের সন্তানকে মানুষ করেন, জাতি গড়েন। অথচ নিজের ঘামঝরা বেতনের টাকা কোথায়, কত আছে—সেই হিসাব জানারও অধিকার যেন তাঁর নেই!

যে রাষ্ট্র শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বলে প্রতি মাসে তাঁদের বেতন থেকে অর্থ কেটে রাখে, সেই রাষ্ট্র কি তাঁদের অন্তত নিজের জমানো টাকার হিসাব দেখার অধিকারও নিশ্চিত করতে পারবে না?

নিজের টাকা, কিন্তু নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই—এর চেয়ে বড় আর্থিক বৈষম্য আর কী হতে পারে?

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।