গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের মধ্যপরান গ্রামের চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি (ম্যানেজিং কমিটি) গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে তথাকথিত ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ০৭-০৭-২০২৬ ইং তারিখে এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আইনুরন্নাহার বেগম দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিজস্ব পকেট কমিটি গঠন করে বিভিন্ন অপকৌশল চালিয়ে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়নি। এর পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে মনগড়াভাবে অভিভাবক সদস্য ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য নির্বাচন করে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করছেন। ফলে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হচ্ছে না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। লেখাপড়ার পরিবেশও সন্তোষজনক নয়। নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মানে পরিচালিত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর নজরে রয়েছে এবং তারা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয়দের দাবি, শান্তিরাম ইউনিয়নের ওই এলাকায় অনেক শিক্ষিত ও যোগ্য অভিভাবক এবং বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কিন্তু তাদের সম্পৃক্ত না করে কোনো ধরনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করছেন। এতে প্রকৃত অভিভাবক প্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এবার এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের মতে, এতে বিদ্যালয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।