চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০০ নারী শিক্ষার্থী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টাব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এ চিকিৎসা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের যৌথ সহযোগিতায় সেবাটি বাস্তবায়ন করে চাকসু।
অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল হক। এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের বোর্ড অব ডিরেক্টরস মিসেস আমেনা শাহীন।
উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। সঞ্চালনা করেন চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার (দ্বীপা) এবং সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, সাহিত্য- সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতব্বর, নির্বাহী সদস্য সালমান ফারসি সাকিব এবং আদনান শরীফ।
চবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, “চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল চাকসুর উদ্যোগে যেভাবে সাড়া দিয়েছে, এজন্য তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেটুকু মেডিকেল ফ্যাসিলিটিস আছে, তাতে অনেক কিছুই আমরা কাভার করতে পারি না। মেয়েদের বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা থাকে। সেসব সমাধানের জন্য এমন উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো সফিকুল ইসলাম বলেন, “গতানুগতিক যে রাজনীতি তা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার কাজ করে যাচ্ছে চাকসু। আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং লোকলজ্জার কারণে ছাত্রীরা বিভিন্ন রোগের কথা বলতে পারে না। চাকসুর এ আয়োজনের কারণে আমাদের ছাত্রীরা একদিকে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং তাদের রোগ সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন। একাডেমিক এবং কো-কারিকুলাম এক্টিভিটির জন্য ছাত্রীদের সুস্থ থাকা জরুরি।”
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল হক বলেন, “আগামীতে আমরা বিশেষায়িত হাসপাতাল করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ব্যবস্থা করতে চাই, যাতে চিকিৎসার জন্য ঢাকা যেতে না হয়। আমরা ইতোমধ্যে চবির সাথে একটা চুক্তি করেছি, যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ডিসকাউন্ট রয়েছে। এতে বিভিন্ন টেস্টের জন্য সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিয়েছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাতে আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে যায়, সে আশাই ব্যাক্ত করছি।”
চাকসু ভিপি মো. ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, “আমরা চাকসু নির্বাচনের পর থেকে ৫-৬ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। চাকসুর এ চেয়ারগুলো অত্যন্ত আমানতের সাথে আমাদের মেইন্টেইন করতে হচ্ছে। এখানে চাইলেই আমরা যা ইচ্ছে করতে পারি না। স্যারদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, যাতে পরবর্তী বছর চাকসু নির্বাচন আবার হয়। দ্বিতীয়ত আমাদের মেডিকেল সেন্টারকে কিভাবে আরও আধুনিক করে সাজানো যায় সে বিষয়গুলি দেখার জন্য স্যারদের আমি অনুরোধ জানাবো।”
চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বিপা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে দূরে হওয়ায় তারা চাইলেই শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে না। তাই, আমরা ছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মাথায় রেখে ছাত্রীদের জন্য এই মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। ছাত্রীরা স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সমানেও ছাত্রীদের জন্য আরও কিছু সুন্দর সুন্দর আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছি।
চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা জানান, চাকসুর এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় এগারোশো ছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। তবে, রেজিস্ট্রেশনের বাহিরে আরও অসংখ্য ছাত্রী সেবা নিয়েছেন। ছাত্রীরা এই মেডিকেল ক্যাম্প থেকে চার ধরনের চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। সেগুলো হলো— গাইনোকলজি, মেডিসিন, ডার্মাটোলজি এবং নিউট্রিশন। ক্যাম্পটিতে সকাল ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলেছে। ১২ জন ডাক্তার ছাত্রদের সেবা দিয়েছেন।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।