শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
অপরাধ

মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, অভিযুক্ত সানজু বকসীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বকশীপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার দুই শিক্ষার্থী আওলাদ হোসেন (৮) ও মাহিম মিয়াকে (৮) বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সানজু বকসীর (৫২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সানজু বকসীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। 

অভিযুক্ত সানজু বকসী ওই ইউনিয়নের রামধন বকসীপাড়া এলাকার মৃত জয়নাল বকসীর ছেলে। তিনি মাঝে মধ্যে ওই মাদ্রাসার কালেকশনের কাজ করতেন। সানজু বকসী বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাবকে সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৭ জুন) উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন বকসীপাড়া (তেলানিপাড়া) আঞ্চলিক সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বলাৎকারের শিকার শিক্ষার্থী মাহিম মিয়া, শিক্ষার্থীর পিতা রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শামীম মিয়া, এনজিও কর্মী শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহাবুল ইসলাম, শিক্ষক রাসেল মিয়া ও পিয়াল হাসান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার পাশেই বাড়ি হওয়ায় ঐ দুই শিক্ষার্থীকে দেড় মাস আগে সানজু বকসী তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একবার বলাৎকার করে। পরে ঘটনার চলতি মাসের প্রথমের দিকে ওই মাদ্রাসায় রাত কাটিয়ে আরেক বার তাকে বলাৎকার করে। পরে সে চিল্লাচিল্লি করতে ধরলে প্রথমে তার মুখ চেপে ধরে এবং বিষয়টি কাউকে বললে তাকে মারার হুমকি প্রদান করে। এমনকি বিষয়টি তার পিতা-মাতাকে জানাতেও নিষেধ করে এবং বলে তোর পিতা মাতাকে জানালে তোর পিতা মাতাকে মেরে ফেলবো। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবো।

বক্তারা আরও বলেন, ভয়ে মাহিন বিষয়টি কাউকে বলেনি। অপর ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীকে সে একই ব্যাক্তি দ্বারা ১ মাস আগে বলাৎকারের শিকার হন। তাকেও একই ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করা হয়। পরে আবারও বলাৎকার করতে চাইলে মানসিক ভাবে চাপে থাকা মাহিন বাধ্য হয়ে তার মাকে বললে বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে এলকায় ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে  এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

পরে অভিযুক্ত সানজু বকসী বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোন সুরাহা হয়নি। পরে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় সানজু বকসী। তার ভয়ে থানায় অভিযোগ না দিয়েই বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। 

শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঐ এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত সানজু বকসীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার পরিচালক নুর আলাম বলেন, তিনি ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন। অন্য একজনকে দ্বায়িত্ব দিয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার সভাপতিসহ কমিটির সকলকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। 

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ঘটনার দেড় মাস পরে অভিযোগ দিতে আসেন ভুক্তভোগীরা। এই জন্য তাদেরকে চেয়ারম্যান মেম্বারদেরকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এরপর তারা পুলিশকে কিছু জানায়নি।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।