শিরোনাম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা বিজ্ঞানচর্চায় শিক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান নোবিপ্রবি উপাচার্যের লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে পিস্তল গুলি এবং ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার নেপিয়ার ঘাস চাষে বদলে যাচ্ছে ধুনটের কৃষি অর্থনীতি ময়মনসিংহে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজন সিএনজি বাস মুখোমুখিতে নিহত হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি জাতীয়করণকৃত কলেজে অধ্যক্ষের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন, পূর্বধলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা নোবিপ্রবির টিএইচএম বিভাগের নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিনু ফাতেমা
ক্যাম্পাস

বিএনপি সাংসদ মনিরুলের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত চায় চবি ছাত্রীসংস্থা

৮ দফা দাবি উত্থাপন

জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরি কর্তৃক হিজাব বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রীসংস্থার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। এ সময় মানববন্ধনে সংগঠনটি ৮ দফা দাবি উত্থাপন করে। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল ‘আমার পোশাক হিজাব-নিকাব, আমার আভিজাত্য’, ‘ধর্মীয় অবমাননার শেষ কোথায়?’, ‘পর্দা আমার ধর্মীয় ও সাংবিধানিক অধিকার’ এবং ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না’ ইত্যাদি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির প্রশিক্ষণ বিভাগের সেক্রেটারি ও চাকসুর নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা, শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক ও খালেদা জিয়া হলের ভিপি সুমাইয়া নুসরাত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও প্রীতিলতা হলের এজিএস আফরিদা রিমা, বায়তুল মাল সম্পাদক ও প্রীতিলতা হলের এজিএস নাদিয়া তাসনিয়া, ইউনিট দায়িত্বশীল ও খালেদা জিয়া হল সংসদের জিএস নাজিফা তাসফিয়াহ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রীসংস্থার প্রচার সম্পাদক তাওফীকা রহমান, প্রীতিলতা হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সুমাইয়া করিমসহ অন্যান্যরা। 

শাখা ইসলামি ছাত্রীসংস্থার প্রশিক্ষণ বিভাগের সেক্রেটারি ও চাকসুর নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা বলেন, জাতীয় সংসদের মতো রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একজন সরকারি দলীয় সংসদ সদস্য বোরকা-নিকাবকে ‘বউ বদলের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বিরোধী দলীয় নারী সাংসদদের কটাক্ষ করেছেন। মহান সংসদে নারীকে নিয়ে এমন বক্তব্য আমাদের ব্যথিত করে। অথচ আমরা আশা করি, সেখানে নারীর স্বাধীনতা, নারীর অধিকার ও নারীর সুরক্ষা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনগণ জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থান থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশা করে না। একজন সংসদ সদস্য যখন সংসদে দাঁড়িয়ে এমন মন্তব্য করেন, তখন তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাই।

শাখা ইসলামি ছাত্রীসংস্থার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আফরিদা রিমা বলেন, ‘সম্প্রতি নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্‌বেগজনক। জাতীয় সংসদে বিতর্কিত মন্তব্যকারী সংসদ সদস্য মনিরুল হক এখনো তার বক্তব্যের জন্য কোনো ধরনের অনুতাপ প্রকাশ করেননি কিংবা ক্ষমা চাননি, যা বিষয়টিকে আরও হতাশাজনক করে তুলেছে। বিষয়টি সমাধানে শুধু মৌখিক দু:খপ্রকাশ যথেষ্ট নয় বরং ঘটনার একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’ 

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে ঘটনাটির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হয়। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সদস্য কিংবা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ধরনের অবমাননাকর ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সাহস পাবে না।’


উত্থাপিত ৮ দাবি— 

৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন শাখা ছাত্রীসংস্থার প্রচার সম্পাদক তাওফীকা রহমান। তিনি বলেন, 

১. জাতীয় সংসদে নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। 

২. জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। 

৩. ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকের কারণে নারীদের প্রতি বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৪. দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৫. নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইবুনালের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করতে হবে। 

৬. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনপরিসরে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৭. নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

৮. নারীর ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।