শিরোনাম
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’ আঠারবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৬ জনের ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধুনটে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ,চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু লালমনিরহাটে যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ পাবনা আমিনপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
বাছাইকৃত

ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়িতে শ্মশান কালী পূজা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিসমাপ্তি

দেশ মাতৃকা ও বিশ্বজনীন সকল প্রাণীর শান্তি কামনায় আঠারবাড়ী মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রী শ্রী শ্মশান কালী পূজা উদযাপন কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মাতার পূজার্চনা।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র বৈশাখী অমাবস্যা তিথি উপলক্ষে এই পূজার আয়োজন করা হয়। শ্মশান কালীকে ধ্বংস ও পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে ভক্তরা বিশেষ ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই পূজায় অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। পূজাস্থলে সাজসজ্জা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভক্তদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয় বলে জানান আয়োজক কমিটির সদস্যরা। পূজা উপলক্ষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিশেষ প্রার্থনা ও প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্মশানকে শুধু মৃতদেহ দাহ করার স্থান হিসেবে নয়, বরং গভীর তত্ত্ব ও উপলব্ধির ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। “শ্মশান” শব্দের অর্থ ‘শমস্থান’ বা ‘মৃতস্থান’। প্রচলিতভাবে যেখানে শবদাহ করা হয়, সেই স্থানকেই শ্মশান বলা হয়। এই শ্মশানকেই ধরা হয় আদ্যাশক্তির বিচরণক্ষেত্র।

হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী মা কালী ধ্বংসের দেবী হলেও এই ‘ধ্বংস’ সর্বনাশ নয়, বরং ‘সংহরণ’—অর্থাৎ সৃষ্টি ও লয়ের চক্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বাস করা হয়, দেবী নিজেই এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেন এবং সময়ান্তে তা আবার নিজের মধ্যে লীন করেন। 

শ্মশানকে বৈরাগ্য ও তপস্যার ভূমি হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। এখানে অবস্থান করলে জীবনের নশ্বরতা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়। ধনী-গরিব, সুন্দর-অসুন্দর—সব ভেদাভেদ মুছে গিয়ে মৃত্যুর পর সকলের পরিণতি এক মুঠো ভস্মে এসে মিশে যায়। এই চরম সত্য উপলব্ধি করেই বহু সাধক-সাধিকারা শ্মশানকে সাধনার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেন।

ধর্মীয় মতানুসারে, মানুষের কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা ও অহংকারের মতো রিপুগুলোর আসল ক্ষেত্র এই দেহ। মৃত্যুর পর এই দেহ চিতায় দগ্ধ হয়ে ভস্মে পরিণত হয় এবং সেই সঙ্গে রিপুগুলোরও অবসান ঘটে। তাই শ্মশানকে আত্মশুদ্ধি ও বৈরাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

এছাড়া, তারা দেবী ও ছিন্নমস্তার মতো শক্তিরূপ দেবীদের সঙ্গেও শ্মশানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ আছে। হিন্দু ধর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্দিরে শাস্ত্রপাঠের মাধ্যমে জীবনের নশ্বরতা বোঝানো হয়, আর শ্মশানে সেই বাস্তবতার প্রত্যক্ষ উদাহরণ চোখের সামনে উপস্থিত হয়। এ কারণেই শ্মশানকে মন্দিরের মতোই পবিত্র মনে করা হয় এবং মা কালীর প্রিয় স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

আয়োজকরা আশা ব্যক্ত করে বলেন, এই পূজার আয়োজনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মঙ্গল বয়ে আসবে।

বাছাইকৃত থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।