শিরোনাম
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’ আঠারবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৬ জনের ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধুনটে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ,চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু লালমনিরহাটে যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ পাবনা আমিনপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
ময়মনসিংহ

পুরনো ইট দিয়ে ঈশ্বরগঞ্জে সড়ক সংস্কার, মান নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রায় দুই কোটি টাকার একটি সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ প্রকল্পে পুরনো ইটসহ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাইজবাগ বাজার থেকে নবাবগঞ্জ বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিবি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কাজের নির্ধারিত সিডিউল অমান্যের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও সড়কের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ হাজার ৩২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ২২৭ মিটার প্যালাসাইডিং (পার্শ্ব দেয়াল) ও একটি ইউ-ড্রেন নির্মাণের কথাও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে সড়কের দু’পাশের এজিংয়ে পুরনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের টেকসই হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন মিয়া বলেন, “পুরনো রাস্তায় ব্যবহৃত ইট আবার নতুন কাজে লাগানো হচ্ছে। ঠিকাদার নিজেই বলেছেন, প্রতি লাখ ইটের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ইট পুরনো ব্যবহার করা হবে। এতে রাস্তার মান ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”

এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এলজিইডি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করেই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিবি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রাসেল মিয়া বলেন, “উপজেলা এলজিইডি অফিসকে অবহিত করেই পুরনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে।”

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির কার্য-সহকারী মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, “পুরনো ইট সরাসরি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। সেগুলো ভেঙে খোয়া হিসেবে ব্যবহারের কথা রয়েছে।”

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “রাস্তা নির্মাণে সিডিউল বহির্ভূত বা নিম্নমানের কোনো উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ নেই। কোথাও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এই সড়ক ব্যবহারে ভোগান্তি বাড়বে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হবে।

ময়মনসিংহ থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।