আজ জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানা এলাকায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত হয় দেশের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক সেনা হত্যাযজ্ঞ। ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় আজ তাদের স্মরণ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যথাযথ গুরুত্বে পালিত না হলেও ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে দোয়া, মিলাদ ও স্মরণসভা আয়োজন করেছে। শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানানো হয়েছে।
পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় বিস্তারিত আলোচনা থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকলেও নাগরিক মহলে এ বিষয়ে একটি অভিন্ন প্রত্যাশা রয়েছে—ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা ছিল—এ উপলব্ধি জাতীয় ঐক্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ।
হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল বলে আলোচনায় উঠে আসে। তবে সময়ের পরিক্রমায় এবং বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে ঘটনাটির বহু দিক স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে।
সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শহীদ সেনা দিবসে তাই শুধু শোক নয়, রয়েছে অঙ্গীকারও—রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর শপথ।
আজকের এই দিনে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পিলখানার শহীদদের এবং প্রত্যয় ব্যক্ত করছে—তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না; ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাই থাকবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।