দেশের রাজনীতি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা আইনের শাসন—এসব প্রসঙ্গ অনেকেই সচেতনভাবে এড়িয়ে চলেন। ইতিবাচক বিষয় নিয়েই কথা বলতে চান। কিন্তু কিছু ঘটনা এমনভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়, যা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কারণ, সেখানে প্রশ্ন জড়িত থাকে একটি তরুণ জীবনের, একটি পরিবারের ভবিষ্যতের, সমাজের সামষ্টিক নিরাপত্তাবোধের।
সরকারি আনন্দ মোহন কলেজ-এর রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী (২০২০–২১ সেশন) নুরুল্লাহ্ শাওন—একজন সম্ভাবনাময় তরুণ—ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রেই ছিনতাইকারীদের আক্রমণের শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ময়মনসিংহ শহরের ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত জয়নুল আবেদীন পার্ক-এর বিপরীতে নদের পাড় থেকে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার আজ দুই দিন অতিক্রান্ত। অথচ এত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার সংক্রান্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।
এই নিখোঁজের ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি জননিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। দিনের আলোয়, শহরের পরিচিত স্থানে একজন কলেজ শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান—এবং দুই দিনেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলে না—এমন বাস্তবতা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি শব্দে তাঁরা আশার আলো খুঁজছেন। সহপাঠীরা ক্লাসে বসে থাকতে পারছেন না, বন্ধু নিখোঁজ—এই অনিশ্চয়তা তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছেন—আজ সে, কাল কে?
সবচেয়ে হতাশাজনক দিক হলো, এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরও প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে দৃশ্যমান কোনো বার্তা পাওয়া যাচ্ছে না। অনুসন্ধান চলছে—এই আশ্বাসের বাইরে বাস্তব অগ্রগতির খবর নেই। সময় যত গড়াচ্ছে, শঙ্কা তত গভীর হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখোঁজের প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত অবহেলা মানে উদ্ধার সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করা। অথচ বাস্তবে সেই জরুরি তৎপরতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠছে।
নুরুল্লাহ্ শাওন কেবল একজন শিক্ষার্থী নন—তিনি একজন সন্তানের আশা, বন্ধুদের স্বপ্ন, শিক্ষিত ভবিষ্যতের প্রতীক। তাঁকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করা শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়, এটি সমাজের নৈতিক দায়।
অবিলম্বে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ্ শাওনকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ তৎপরতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আজ যদি আমরা নির্বাক থাকি, তবে এই নীরবতাই আগামী দিনের আরও ভয়াবহ ঘটনার পথ প্রশস্ত করবে।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।