রাজশাহী মহানগরীতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর সুলভ মূল্যের পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হতেই চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য না পাওয়ার শঙ্কা থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে হাতাহাতি ও ব্যাপক ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
সাতসকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন
আজ সকাল থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছানোর আগে থেকেই শত শত নারী-পুরুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রোদে পুড়তে দেখা যায়। অনেককে দেখা যায় ভোর ৪টা বা ৫টা থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন এক ব্যাগ চিনি, ডাল বা তেলের আশায়।
বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতি
লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে লাইনের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিরিয়াল ভেঙে পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পণ্যপ্রত্যাশীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিলার ও তাদের সহকারীদের হিমশিম খেতে দেখা যায়। অনেক নারী সদস্যকে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে আর্তনাদ করতে দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রহিমা খাতুন নামের এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোর থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। অথচ প্রভাবশালীরা এসে পেছন থেকে সিরিয়াল ভেঙে পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যারা গরিব, আমাদের দেখার কেউ নেই। ধাক্কাধাক্কিতে প্রাণ যাওয়ার অবস্থা।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “বাজারে সব জিনিসের দাম আকাশচুম্বী। একটু কম দামে পাব বলে এখানে আসা, কিন্তু এখানে যে পরিবেশ, তাতে পণ্য পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ডিলার ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পণ্য বিক্রির দায়িত্বে থাকা ডিলাররা জানান, চাহিদার তুলনায় পণ্যের বরাদ্দ কম থাকায় ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা মনে করছেন, পয়েন্টের সংখ্যা এবং পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো হলে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমত।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য বিতরণে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিশাল এই জনস্রোত সামাল দিতে জনগণের সচেতনতা ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।