কঠোর নিরাপত্তায় সারা দেশে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়ে ও সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে ভোটগ্রহণে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হস্তান্তর করছেন।
নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব ধরনের সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, অমোচনীয় কালি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, হেসিয়ান বড় ও ছোট ব্যাগ, মোম, গানি ব্যাগসহ ভোটগ্রহণ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ।
সকাল থেকেই প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও আনসার সদস্যদের কাছে কঠোর নিরাপত্তা এবং নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে এসব সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সরঞ্জাম সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে পরিবহন ও হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সারা দেশের সব সংসদীয় আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সময়মতো নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—উভয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচন কমিশন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।