ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি থেকে ঈশ্বরগঞ্জ সদরের সংযোগকারী আঞ্চলিক মহাসড়ক এখন যেন কৃষিপণ্যের অস্থায়ী খলিয়ানে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন সড়কের বড় অংশ দখল করে ধান ও খড় শুকানোর প্রতিযোগিতা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্তদের রহস্যজনক নীরবতা ও অবহেলার কারণেই সড়কে এই বিশৃঙ্খলা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশজুড়ে ধান বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ধান যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য রাস্তার ওপর ভারী গাছের গুড়ি ও খড়ের গাদা ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিপরীতমুখী দুটি যান একসঙ্গে চলাচলের সময় প্রায়ই তৈরি হচ্ছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি।
সম্প্রতি এমনই এক ঘটনায় যাত্রীবোঝাই একটি অটোরিকশা দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাস্তার ওপর হঠাৎ উঠে আসা একটি ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় অটোরিকশাটি পাশের পুকুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। চালকের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও আহত হয় ছাগলটি। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশজুড়ে ধান শুকানোর কারণে যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে রাস্তার একপাশ ঘেঁষে চলাচল করছে। এতে মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অটোরিকশার চাকা ধানের ওপর পিছলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সন্ধ্যার পর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ অনেক স্থানে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক চিহ্নও রাখা হয় না।
ভুক্তভোগী যাত্রী মো. রাফিকুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি রাস্তা কেউ ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করতে পারে না। রাস্তার ওপর গাছের গুড়ি ফেলে রাখা সরাসরি মৃত্যুফাঁদ তৈরি করার শামিল। আজ আমরা পুকুরে পড়ে মারা যেতে পারতাম। এমন দুর্ঘটনার দায় কে নেবে?”
চালকদের ভাষ্য, ধান ও খড়ের স্তর জমে থাকায় গাড়ির চাকা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির পর রাস্তা আরও পিচ্ছিল হয়ে ওঠে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, কৃষকদের ধান শুকানোর জায়গার সংকট থাকলেও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মহাসড়ক ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সড়ক দখলমুক্ত করা এবং বিকল্পভাবে ধান শুকানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সড়কে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ধান শুকানো বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটির পর একটি দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও কেন নীরব প্রশাসন? বড় কোনো প্রাণহানির পরই কি কেবল জাগ্রত হবে দায়িত্বশীলদের বিবেক?






এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।