শিরোনাম
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’ আঠারবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৬ জনের ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধুনটে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ,চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু লালমনিরহাটে যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ পাবনা আমিনপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
আন্তর্জাতিক

জনগণের ভিত্তিতেই এগোবে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক

রাজনৈতিক দল নয়, পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের সংযোগেই জোর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিন্ন স্বার্থ—কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নয়। এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদার। পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্কই দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।

ভিসা, নিরাপত্তা ও সীমান্ত ইস্যুতে আলোচনা

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতি ও হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টার পুনরায় চালু এবং ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বিজিবি–বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক, পুলিশ একাডেমির প্রশিক্ষণ বিনিময়, বন্দি বিনিময় ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো দ্রুত চালুর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা সেন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের মব হামলা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

জবাবে হাইকমিশনার জানান, গত দেড় বছরে নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি ভিসা সেন্টার বন্ধ ছিল এবং ভিসা প্রদানের হার কমে যায়। তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে পর্যায়ক্রমে সেন্টারগুলো চালু করা হবে এবং ভিসা প্রদানের হার বাড়বে। তিনি বলেন, মেডিকেল ভিসা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা জোরদার

হাইকমিশনার জানান, ভারতীয় ভিসার আবেদন এখন অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ওয়েবসাইট হ্যাকের চেষ্টা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে ভারতের Indian Technical and Economic Cooperation (আইটেক) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী ভারতে পাঠানো হবে।

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানোর আহ্বান

সীমান্ত হত্যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্রুত এ সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের শুরুতে হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, জনগণকেন্দ্রিক এ দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক ও স্থিতিশীল করবে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।