রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের গড়বাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে সচ্ছলদের নামে বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলো দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে গড়ে উঠেছে মাদকের রমরমা বাজার। দিনের আলো ফুরোতেই এসব পরিত্যক্ত ঘরে বসছে মাদক সেবন ও কেনাবেচার আসর।
তালাবদ্ধ ঘর: অপরাধের অভয়ারণ্য
গড়বাড়ি প্রকল্পে সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেকগুলো ঘরে বরাদ্দের পর থেকেই কেউ বসবাস করছে না। কিন্তু এই জনশূন্য ঘরগুলোই এখন গোগ্রাম ইউনিয়নের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ:
- মাদকের আড্ডা: ঘরগুলো ব্যবহার না হওয়ায় মাদক কারবারিরা কৌশলে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা থাকে।
- নিরাপত্তা ঝুঁকি: ইয়াবা, ফেনসিডিল ও দেশি মদের আসর বসায় সাধারণ গ্রামবাসী ও নারীরা ওই পথ দিয়ে চলাচলে আতঙ্ক বোধ করছেন।
- সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ঘরগুলো বন্ধ রেখে মাদক সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেনাবেচার পর এবার মাদকের গ্রাস
এর আগে এই ঘরগুলো ১ থেকে ২ লাখ টাকায় হাতবদলের খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই বাণিজ্য ছাড়িয়ে মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘরগুলো পাওয়ার কথা ছিল ভূমিহীনদের, কিন্তু পেয়েছে টাউটরা। তারা নিজেরা থাকে না, আর ঘর ফাঁকা থাকায় সেখানে এখন নেশার কারবার চলে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়।”
”যে ঘরগুলো হওয়ার কথা ছিল শান্তির নীড়, সেগুলো এখন অপরাধের আস্তানা। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে।”
— সচেতন এলাকাবাসী
প্রশাসনের প্রতি দাবি
গোদাগাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এমনিতেই অঞ্চলটি মাদকপ্রবণ। তার ওপর সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে এমন কর্মকাণ্ড সরকারের মহৎ উদ্দেশ্যকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এলাকাবাসীর দাবি:
- অবিলম্বে উচ্ছেদ: যারা ঘর পেয়েও থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করতে হবে।
- যৌথ অভিযান: পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে গড়বাড়ি প্রকল্পে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক স্পটগুলো গুঁড়িয়ে দিতে হবে।
- সঠিক বণ্টন: মাদক কারবারিদের হটিয়ে প্রকৃত অসহায় ও ছিন্নমূল পরিবারগুলোকে সেখানে পুনর্বাসন করতে হবে।





এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।