শিরোনাম
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে ১৫ বছরের বিরোধ, ন্যায্য অধিকার ফেরতের দাবি ফরহাদ আহমেদ সম্রাটের পূর্ণ নিরাপত্তায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ‘রোডম্যাপ চূড়ান্ত’ আঠারবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৬ জনের ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ধুনটে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ধুনটে ঔষধ সেবনের পর অসুস্থ,চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু লালমনিরহাটে যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও ২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ পাবনা আমিনপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশে এমপি, ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পিকআপ বেরোবিতে শুরু হলো ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের যাত্রা সুন্দরগঞ্জে জামাই শশুর বাড়িতে এসে অবরুদ্ধ: রফাদফায় বিএনপি নেতাদের পকেটে ঢুকলো পঞ্চাশ হাজার টাকা
অপরাধ

গোদাগাড়ীর রানীনগর ও গড়বাড়ি এখন মাদকের স্বর্গরাজ্য: প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগগ্রাম ইউনিয়নের রানীনগর ও গড়বাড়ি গ্রামে বর্তমানে মাদকের (বিশেষ করে গাঁজা ও হেরোইন) রমরম ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত কিছু অসাধু চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় গ্রাম দুটি এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ এই অবৈধ কারবার বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​প্রকাশ্যে চলছে বেচাকেনা অনুসন্ধানে জানা গেছে, রানীনগর ও গড়বাড়ি গ্রামের নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে দিন-রাত সমানতালে মাদক কেনাবেচা চলছে। মাদক ব্যবসায়ীরা এতটাই বেপরোয়া যে, কোনো রাখঢাক ছাড়াই তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। উঠতি বয়সের কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ এসব এলাকায় মাদকের নেশায় ছুটে আসছে। এতে করে ওই এলাকার সামাজিক পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

​আইনি ব্যবস্থার অভাব এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কেনাবেচার খবর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও কার্যকর কোনো অভিযান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে ছিঁচকে সেবনকারী ধরা পড়লেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মাদক সম্রাটরা তাদের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, “এখানে গাঁজার ব্যবসা এখন পানের দোকানের মতো খোলাখুলি চলে। কিন্তু আইনের কোনো ভয় নেই। আমাদের চোখের সামনে যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”

​বিপন্ন যুবসমাজ ও নিরাপত্তা শঙ্কা মাদকের অবাধ বিস্তারের ফলে এলাকায় চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে মাদকসেবীরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এখনই যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে এই এলাকা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।

​প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে স্থানীয় থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের “জিরো টলারেন্স” নীতি অব্যাহত রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে অনেক সময় অভিযান সফল হয় না। গোগগ্রাম ইউনিয়নের মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে খুব দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

​গোদাগাড়ীর সচেতন নাগরিক সমাজ রানীনগর ও গড়বাড়ি গ্রামকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশ সুপার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
কমেন্ট

এই পোস্টে মন্তব্য বন্ধ আছে।