জবির নতুন ক্যাম্পাস নিয়ে আন্দোলন, ভিসি কক্ষের সামনে বিশৃঙ্খলা

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

জবি সংবাদদাতা:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন ক্যাম্পাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তত্বাবধায়নে করার দাবিতে ভিসির অফিস রুমের সামনে স্লোগান দিয়ে আন্দোলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী কয়েকজন নেতাসহ কিছু ছাত্রলীগ কর্মী।

এসময় তারা ভিসির কক্ষের সামনে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং সামনে থাকা একটি গাছের টপ ভেঙ্গে ফেলেন।

সোমবার দুপুরে ১২ টায় ভিসি কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। একসময় প্রক্টরিয়াল বডির সাথে উচ্চবাচ্যের এক পর্যায়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে পরিস্তিতি আরো অশান্ত ও বিশৃঙ্খল হয়ে এলে প্রক্টরিয়াল বডিসহ বেশ কিছু শিক্ষক এসে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের কাজ যেনো নিজস্ব তত্ত্বাবধানে করা হয় সে দাবিতে ছাত্রলীগের ২০১৯ সালের সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল আলম টিটোন ও কয়েকজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ কিছু কর্মী এসে ভিসি অফিসের সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তাদের থামাতে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একজন শিক্ষকের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ভিসি ভবনের সামেন থাকা গাছের টপ ভেঙ্গে ফেলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষক বলেন, বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা কর্মীসহ যারা আন্দোলন করছেন তারা ভালো একটি বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছে। কিন্তু এর পিছনে কি আছে সেটিও দেখার বিষয়। তারা হয়তো মনে করছে নতুন ভিসি এসেছে। তাকে ধমক দিয়ে কিছু আদায় করা যায় কিনা। তবে ভিসি স্যার সেরকম নন যে ধমক দিলেই কাজ হয়ে যায়। তাদেরকে বারবার তাদের দাবির বিষয় গুলো লিখিত ভাবে দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা দেননি। এ থেকে বুঝা যায় তাদের ভিন্ন কোন উদ্যেশ্য থাকলেও থাকতে পারে।

একজন সহকারী প্রক্টর নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের আন্দোলনের বিষয় নিশ্চয়ই ভালো। কিন্তু তাদের আন্দোলনের পদ্ধতি মোটেও ভালো ছিল না। তারা বিষয়টিকে আরো গুছিয়ে বলতে পারত কিংবা ভিসি স্যারের কাছে তুলে ধরতে পারত কিন্তু সেটি না করে তারা যেভাবে স্লোগান দিয়েছে এবং ভাঙচুরের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে তাতে আন্দোলনের ভালো উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে। তাদের আন্দোলনের মোটিভ দেখে মনে হয়েছে এর পিছনে অন্য কারণ রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য নতুন ক্যাম্পাসের কাজ নয় বরং অন্যকিছু।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগের ২০১৯ সালের সম্মেলন কমিটির ১ নম্বর যুগ্ন আহ্বায়ক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ২ বছরের সময় বাড়িয়ে ৪ বছর হয়ে গেলেও এখনো মাস্টার প্লান তৈরি করতে পারেনি প্রশাসন। তবে এখন তারা মাস্টার প্ল্যানসহ সব কাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে চায়। এতে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজটি হয়তো গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বা শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর পেতে পারেন। ফলে এটি দীর্ঘ মেয়াদী হবে। তাই আমাদের দাবি ছিল যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ তত্ত্বাবধানে কাজটি করেন। টপ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, স্লোগান দেয়ার সময় হয়তো কারো কারো সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে পারে। আমাদের কেউ এমন করেনি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কাজের ব্যাপারে বা ভিসি স্যারের কাছে কোন দাবি থাকলে সেটি লিখিত জানানোর জন্য বারবার ভিসি স্যার বলেছে। কিন্তু তারা কোন ধরনের লিখিত দাবি করেননি। আজকেও ভিসি স্যার তাদেরকে লিখিত দাবি দেয়ার জন্য বলেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১১ই এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলীর রুমে নতুন ক্যাম্পাসের বাউন্ডারি বাবদ ৩০ কোটি টাকার টেন্ডার ইস্যুতে শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীদের কয়েকজনের সাথে হাতাহাতির ঘটনায় জড়ান এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা পদপ্রত্যাশীদের অনুসারীরা।

মন্তব্য করুন