প্রিয় ক্যাম্পাস খোলা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনুভূতি!

প্রকাশিত: ৭:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২১

মেহেদী হাসান: লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার ঘনঘটা যেন কাটছেই না। প্রাণের ক্যাম্পাসগুলো বন্ধ প্রায় ১৮ মাস হতে চললো। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো তালা ঝুলছে। কবে নাগাদ খুলতে পারে তার নেই কোনো নিশ্চয়তা। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চ মাসে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় বেড়ে চলছে লকডাউনের সময়সীমা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারের অব্যবস্থাপনা ও করোনার ভয়াবহতার কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। লকডাউন মেনে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বার বার প্রস্তুতি নিলেও, পরিস্থিতির অবনতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারনে সে চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে বাড়ি ফিরতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসে করে।

তবে আশার বাণী হলো এরই মধ্যে সরকার তার কূটনৈতিক দক্ষতায় টিকা আমদানি ও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয় সহ কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে টিকা। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ও টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতির কথা বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিবে সরকার এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

স্বাধীনতা পরবর্তী কখনো এত দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে দীর্ঘ বিরতির পরে কেমন হবে স্বপ্নে ঘেরা প্রিয় ক্যাম্পাসে ফেরার অনুভূতি, তা জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। আজ তাদের অনুভূতি উপস্থাপন করা হলো –

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ফাহিম ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থাকায় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আছি।ক্যাম্পাস খোলার কথা শুনে যেন এক নতুন প্রাণ সঞ্চার হলো। এতদিন প্রিয় ক্যাম্পাসে কাটানো সময় গুলোর কথা ভেবেই দিন পার করেছি। ঝুপড়িতে বসে আড্ডা, শাটলের গান, হতাশার মোড়ে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ যেনো এখনো কানে বাজছে। দীর্ঘ সময় পর আবার ক্যাম্পাসে ফিরব। আগের মতো গান হবে, আড্ডা হবে এ যেন এক নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস। সে সাথে উৎকন্ঠাও যেন বাড়ছেই। প্রায় দুই বছরের সেশন জট! কীভাবে কাটিয়ে উঠবো? তাছাড়া ক্যারিয়ার এর চিন্তা তো আছেই। তবুও ক্যাম্পাস খোলার কথা যেন একটু বেশিই আনন্দের ছোয়া এনে দিয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ খান জয় বলেন, করোনার আগ্রাসী থাবায় যেন কোনঠাসা হয়েই পড়েছিলাম। অনলাইন ক্লাস, এসাইনমেন্ট, বাকি সময় বই পত্র, মোবাইল ব্যবহার আর ঘুমিয়েই পার করেছি। বাসায় লম্বা সময় ধরে অবস্থান করে এতটা বিরক্ত হয়ে পড়েছি যে, নিজের উপর নিজের বিরক্তি এসে গেছে। সব মিলিয়ে যে হাঁপিয়ে উঠেছি। এরই মধ্যে ক্যাম্পাস খোলার খবর যেন আশার আলো দেখাচ্ছে। লকডাউন এর যাতাকল এখন আর নিতে পারছি না। এখন শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছি মুক্তির দিনটা কখন আসবে। কখন ক্যাম্পাসে যাবো? কবে আবার রাতের সেই খোলা আকাশের নিচে ব্রিজের ওপর বসে নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করবো? সরকারের কাছে আবেদন থাকবে শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করে যেন ক্যাম্পাসগুলো খুলে দেয়া হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনা চৌধুরী বলেন, শেষ কবে ক্যাম্পাস এর মুখ দেখেছি তা ভুলে গেছি। মনে হচ্ছে কয়েক যুগ পার হয়ে গেছে। করোনার ভয়াবহতার অতল সাগরে ডুবে যাচ্ছিলাম। বাবা-মাসহ পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন সবাই পুরোপুরি সুস্থ। অনিশ্চয়তা আর উৎকন্ঠায় প্রহর গুনেছি দিনের পর দিন। আর শুধু একটু আলোর আশায় মুখ তুলে তাকিয়ে ছিলাম। এরই মধ্যে ক্যাম্পাস খোলার খবর যেন একটু আশার আলো দেখাচ্ছে। এ এক নতুন আনন্দ যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ক্যাম্পাসে আবার ফিরতে পারবো এ আশা দিনদিন তীব্র হচ্ছে। নতুন দিনে নতুন উদ্দেশ্যে এগিয়ে যেতে চাই এটাই প্রত্যাশা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাকিল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি শত ব্যস্ততার মধ্যে কাটলেও ক্যাম্পাসের প্রতি টান ও ভালোবাসা ভুলে থাকতে পারিনি। মাঝে মাঝে ভিডিও কলে বন্ধুদের সাথে আড্ডার আয়োজনেও নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারতাম না।বার বার ফিরে যেতে ইচ্ছা হতো প্রিয় ক্যাম্পাসে। শুধু একটা প্রশ্ন মনের মধ্যে সবসময় জেগে উঠতো “এই পৃথিবী কি আর কখনো সুস্থ হবে না?” স্বাভাবিক জীবন কি আর কখনো ফিরে পাব না?” করোনা টিকা নিশ্চিতকরণ ও ক্যাম্পাস খোলার খবর যেন একটু স্বস্তি এনে দিয়েছে। সরকারের কাছে একটাই চাওয়া, খুব দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চাই। চাই সেই টিএসসির আনন্দ ফিরে পেতে, টং দোকানের চায়ের কাপে এক চুমুকে সব অবসাদ মুছে ফেলতে। সুন্দর ও সুস্থ পৃথিবীকে ফিরে পেতে চাই আবার।

লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগে’র মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান।

সম্পাদনা: নাজমুল হাসান, সহ-সম্পাদক।

মন্তব্য করুন