হেলেনা পরীমণি পিয়াসা ও মৌয়ের বাসায় অভিযানে আলামত সংগ্রহ

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০২১

বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর, চিত্রনায়িকা পরীমণি ও দুই মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ-এর বাসায় অভিযান চালিয়ে মামলা সংশ্লিষ্ট আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর, পরীমণি, পিয়াসা ও মৌয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাতটি মামলার তদন্তভার পেয়েছে সিআইডি। ওই তদন্তের অংশ হিসেবেই তাদের বাসায় অভিযান চালিয়েছেন সিআইডি সদস্যরা।

সেখান থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রোববার এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

সিআইডি সূত্র জানায়, সিআইডির দল প্রথমে বিকেল ৪টার দিকে গুলশানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় যায়। তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় করা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ও পল্লবী থানার চাঁদাবাজি-প্রতারণার মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

এ ব্যাপারে আলামত সংগ্রহের পর চিত্রনায়িকা পরীমণির বনানীর বাসা, পিয়াসার বারিধারার বাসা ও মৌয়ের মোহাম্মদপুরের বাসায় যান সিআইডি সদস্যরা।

হেলেনা জাহাঙ্গীর, পরীমণি, পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ বর্তমানে সিআইডি হেফাজতেই রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো বুঝিয়ে দিয়ে তাদেরও সেখানে হস্তান্তর করা হয়। তারা রিমান্ডে রয়েছেন। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ২৯ জুলাই মধ্যরাতে হেলেনার গুলশানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। চার ঘণ্টার অভিযানে তখন জব্দ করা হয় ১৯ বোতল বিদেশি মদ, একটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, একটি হরিণের চামড়া, দুটি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেকবই, বিদেশি মুদ্রা, দুটি ওয়াকিটকি সেট এবং ক্যাসিনো খেলার ৪৫৬টি চিপস।

র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১ ওই অভিযান চালায়। পরদিন তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি মামলা করে র‌্যাব। এরমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

অপর মামলাটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

একই রাতে পল্লবী থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। সর্বশেষ ২ আগস্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে পল্লবী থানায় আরেকটি মামলাটি করেন আব্দুর রহমান তুহিন নামে এক সাংবাদিক।

এরপর ৪ আগস্ট পরীমণির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার বাসা থেকে মাদক উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। একইদিন রাতে প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজকেও আটক করা হয়। পরে বনানী থানায় পরীমণি ও রাজের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়।

এরপর গত রোববার মধ্যরাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাদকদ্রব্যসহ ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা এবং মোহাম্মদপুর থেকে ইয়াবাসহ মরিয়ম আক্তার মৌকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

আইএ/

মন্তব্য করুন