ধমক দিয়ে সচেতনতা আসে না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২১

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লকডাউনের লক্ষ্যটা হচ্ছে- মানুষকে মানুষের কাছ থেকে দূরে রেখে, দূরত্ব সৃষ্টি করে সংক্রমণটা প্রতিরোধ করা।

সেটার জন্য তো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোথায় সেই সচেতনতা? খালি ধমক দিয়ে আর গরিব মানুষকে জেলের মধ্যে পুরে দিলে তো হবে না।

রবিবার (১১ জুলাই) ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন। এদিন শনিবার (১০ জুলাই) অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পরামর্শ কমিটির ‘কারফিউ জারির পরামর্শ’ সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমি মনে করি, কারফিউ জারিটা কোনও সমাধান নয়।

এই লকডাউনেও যদি আপনি সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারেন এবং সেখানে যদি তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে না পারেন সেখানে ওই অপরিকল্পিত লকডাউনও তো সঠিক সমাধান আনতে পারবে না।”

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখেন পর পর যে লকডাউনগুলো হয়েছে, সরকারি ছুটি, লকডাউন, কঠোর লকডাউন- আমরা কিন্তু যেইভাবে দূরত্ব সৃষ্টি করা দরকার, সামাজিক দূরত্ব, শারীরিক দূরত্ব, সেই দূরত্ব সৃষ্টি করা সম্ভব হয় নাই।

লকডাউনে কি দেখা যাচ্ছে? মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, কষ্ট পাচ্ছে, বলা যায় যে, অনেকে খাদ্যের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন।’

বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ, আমি পত্রিকায় দেখলাম সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরা কারা? তারা সমস্ত সাধারণ গরিব মানুষ।

তারা দিন আনে দিন খায়, হয়তো রিকশা চালায়, ঠেলা গাড়ি চালায়, হয়তো কোনও একটা রেস্টুরেন্টে চাকুরি করে‑ এরা যখনই বেরিয়েছে তাদেরকে ধরে নিয়ে গেছে।

এমনও কথা বেরিয়েছে যে, বাবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার আনতে গেছে ছেলে‑ সেখানে তাকে গ্রেফতার করার ফলে সেই বাবা অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন। এই অপরিকল্পিত ব্যবস্থার ফলেই কিন্তু আজকে এ ঘটনা ঘটেছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষ তারা কোনও রকমের সহযোগিতা পাচ্ছে না। ইনফরমাল সেক্টর তো এমনিতেই বিপর্যয়ে, তারা ছোট ছোট পুঁজি নিয়ে কাজ করে। দুইবার লকডাউনের ফলে এই ক্ষুদ্র মানুষগুলো তাদের পুঁজি হারিয়ে ফেলেছে, তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে, পথে বসে গেছে।

ফখরুল বলেন, ‘আমি ব্রিটেনের খবর জানি, যুক্তরাষ্ট্রের খবর জানি, যারা ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট চালান, ইনফরমাল সেক্টর যেগুলো আছে‑ এরা কিন্তু সকলেই আগেই প্রণোদনা পেয়ে গেছে।

অর্থাৎ মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রণোদনা পেয়ে যায় ফলে তাদের ওখানে যারা কাজ করে তারা বেতন পেয়ে যায়, যারা মালিক তারাও ভালো একটা অর্থ পায়। দিস শোড বি এ গভার্নমেন্ট-এটাই হওয়া উচিত সরকারের।’

আইএ/

মন্তব্য করুন