লকডাউনের পরও দেশে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণের হার

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২১

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়েছে চলেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

বুধবার (৩০ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় রোগী শনাক্তের হার প্রায় ২৪ শতাংশ। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যত বেশি নমুনা পরীক্ষা হবে তত বেশি রোগী শনাক্ত হবেন জানিয়ে অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ২০২০ সালে দেশে করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য একটি মাত্র পরীক্ষাগার থাকলেও বর্তমানে ৫৬৫টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

যত বেশি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে তত বেশি রোগী শনাক্ত করা যাবে এবং খুব দ্রুত তাদের চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে। তাতে মৃত্যু রোধ করার জন্যও কাজ করা যাবে।

গত সাত দিনের সংক্রমণ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২৩ জুন পাঁচ হাজার ৭২৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল, শতকরা হারে যা ছিল ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

কিন্তু গত ২৮ ও ২৯ জুন রোগী শনাক্ত অনেক বেশি বেড়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২৮ জুন শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ২৯ জুন ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, প্রায় ২৪ শতাংশের কাছাকাছি। গত ৩০ দিনে সংক্রমণ হার মোটামুটি বেড়েই চলেছে, বলেন তিনি।

চলতি বছরের রোগী শনাক্তের সংখ্যা জানিয়ে অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারি মাসে ২১ হাজার ৬২৯ রোগী শনাক্ত হলেও ফেব্রুয়ারি মাসে রোগী কমে হয়, মাত্র ১১ হাজার ৭৭ জন।

কিন্তু মার্চ থেকে ক্রমাগত রোগী সংখ্যা বাড়ছে। এপ্রিল মাসে এক লাখ তিন হাজার ৯৫৭ জন রোগী শনাক্ত হয় আর জুনের ২৯ দিনে শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ তিন হাজার ৮৯৬ জন।

তিনি বলেন, রোগী বাড়ার প্রবণতা গত এক মাস ধরে, গত এক সপ্তাহ ধরে দেখছি। নিশ্চিত করে বলতে পারি আজকের (৩০ জুন) রোগী শনাক্ত হবার পর সেটা হবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ শনাক্ত।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ৮ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত সপ্তাহভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে ৮ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪১৬ জন কিন্তু ২৫তম সপ্তাহে এসে সেটা হয়েছে ৭৩৮ জন।

মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগেও রোগী শনাক্তের হারও অন্য যেকোনও সময়েও চেয়ে বেশি।

আইএ/

মন্তব্য করুন