শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরার বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে

প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২১
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ বুধবার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কেউ বলল, আর সেই অনুযায়ী ঢালাওভাবে সিদ্ধান্ত নিলাম সেটা হয় না। কোটি কোটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের জাতীয় পরামর্শক কমিটি রয়েছে।’

দীপু মনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে উন্নত বিশ্বে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ২০/২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকে না। আমাদের এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যাধিক বেশি। কোনওভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সুযোগ নেই। সে জায়গায় আমরা কিছুতেই ঝুঁকি নিতে পারি না।

আরেকটি বিষয় হলো—এখন অনেকেই বলেন, শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয় না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিমটম কম, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন—শিক্ষার্থীরা সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তারা যদি স্কুলে আসে বাড়িতে গিয়ে বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও বয়স্কদের মধ্যে ছড়াতে (করোনা ভাইরাস) পারে। তাদের সংক্রমিত করলে ভায়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলেন—বাচ্চারা তো বাইরে ঘোরাফেরা করে, তাহলে স্কুলে কেনও নয়? বাইরে যত্রতত্র ঘুরে আর স্কুলে নিয়ে ঠাসাঠাসি ও গাদাগাদি করে ক্লাস নেওয়া এক কথা নয়, অনেক তফাৎ।

শিক্ষার্থীদের বাইরে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানোর কথা নয়। হয়তো বাবা-মা তাদের কথাটা শোনাতে পারছেন না। কিন্তু জেনেশুনে দায়িত্বশীল হয়ে এই গাদাগাদি ঠাসাঠাসির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সংক্রমিত করা এটি কোনওভাবে সচেতনার পরিচয় হতে পারে না।

এই বৈশ্বিক সমস্যার মধ্যে যতটুকু সম্ভব, তাদের সুস্থতার বিষয়টি নজর রেখে আমরা বিষয়টি দেখবার চেষ্টার করছি। এখানে কারিকুলাম সংক্ষিপ্তকরণ থেকে শুরু করে বিকল্প পদ্ধতি, বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি সবটা নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, করোনা শুরুর ঠিক আগে এসএসসি (২০২০) পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। করোনার মধ্যে খুব কষ্ট করে এসএসসির ফলাফল দিয়েছি।

এইচএসির পরীক্ষার আগে আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল। জেএসসি ও এসএসসির ফলাফল দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমরা যা করছি বিজ্ঞানসম্মতভাবেই করছি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সর্বোচ্চগুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করছি।

আইএ/

মন্তব্য করুন