মেগা প্রকল্পে গণলুট চলছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৮:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২১

দেশের মেগা প্রকল্পে গণলুট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (২০ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সমাজ উন্নয়নে মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা আয়োজন করে জিয়া পরিষদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে, লুট করছে। তারা দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। মেগা প্রজেক্টে গণলুট চলছে। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হয়ে যাচ্ছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এভাবে মেগা প্রজেক্টটাকে তারা টাকা বানানোর প্রজেক্ট হিসেবে তৈরি করে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আনপ্রোডাক্টিভ খাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে। এমন এমন কাজ করা হচ্ছে, যে কাজগুলোর কোনো দরকারই নেই। দেখবেন যে স্কুলে-মাদরাসায় টাকা দিয়েছে বড় বড় গেইট তৈরি করতে। এই মুহূর্তে তো গেইট তৈরি করার চেয়ে ক্লাস রুম তৈরি করা বেশি দরকার। সেটা তারা করছে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে কি করুণ অবস্থা। এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভ্যাকসিনের নিশ্চিয়তা হবেও না এজন্য যে, যারা স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে জড়িত, ভ্যাকসিনের সঙ্গে জড়িত- এরা সবাই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এত বড় দুর্নীতি করছে যে, মানুষে জীবকে তারা মূল্যহীন করে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অন্ধকার চতুর্দিকে। বাইরে কিছু দেখতে পাই না। এর মধ্যে জিয়াউর রহমান খুব প্রাসঙ্গিক। এজন্যে যে, জিয়াউর রহমানের আদর্শ যদি আমরা চর্চা করি, তাকে যদি আমরা সামনে নিয়ে আসি, নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেই তাহলে আমরা তার পথ দেখতে পাব। তাতে আমরা অন্ধকার টানেলের দূরে যে লাইট সেই লাইটটা আমরা দেখতে পাব। তাহলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একদলীয় শাসনের কবরের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, স্বৈরশাসনের গোরস্তানের ওপর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আরেকবার আজকে গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র উপহার দেবে সেই বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’

‘আসুন আমরা শুভ দিনের প্রতীক্ষা করব না শুধু, শুভ দিনকে এগিয়ে আনার জন্য আমরা একসাথে কাজ করব’— বলেন নজরুল ইসলাম খান।

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই শিকদার, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিএসএমএমইউ‘র অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে গোলাম হাফিজ কেনেডী, জামাল উদ্দিন রুনু, লুৎফুর রহমান, তোজাম্মেল হোসেন, হাসনাত আলী, মাসুদুল হাসান খান, কামরুল হাসান, আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জিয়া পরিষদের মহাসচিব এমতাজ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন