পাথর ও চাবুক মেরে মুরতাদ এবং সমকামীদের হত্যা চান না বিন সালমান

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২১

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এমবিএস বা মোহাম্মদ বিন সালমান বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কোরআন বিশ্লেষণের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি চান না পাথর মেরে, চাবুক মেরে, মুরতাদ এবং সমকামীদের হত্যা করা হোক।

এই ক্ষেত্রে হাদিসের সমসাময়িক ব্যাখ্যার ওপর জোর দিতে বলেছেন, প্রয়োজনে কোরআনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন সব হাদিস বাদও দিতে বলেছেন তিনি।

গত ২৭ এপ্রিল আল আরাবিয়া টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ২০৩০ ভিশন নিয়ে আলোচনা করেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, যা ২০১৫ সালে নিজ দেশের সামনে পেশ করেছিলেন।

ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে এশিয়ানিউজে লিখেছেন কামেল আবদেররাহমানি।

সাক্ষাৎকারে নিজের ইসলাম সংস্কারের প্রয়াস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেক মুসলিম ফকীহ ও পণ্ডিতগণ হাজার বছর ধরে ইসলামি মধ্যপন্থার ধারণা নিয়ে কথা বলছেন। সুতরাং, আমি এখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা না করলেও এটুকু বলবো, কোরআন, সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত সৌদি সংবিধানকে বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাই। ’

তিনি বলেন, ‘কোরআনই সৌদি আরবের সংবিধান, আমরা যে কোনোভাবেই হোক কোরআনের অনুশাসন বাস্তবায়নে বাধ্য। এই ক্ষেত্রে কোরআনের সুস্পষ্ট বিধানগুলোই কেবল বিবেচ্য হবে, সমাজ এবং ব্যক্তি জীবনের ক্ষেত্রে কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত শর্তাদিই কেবলমাত্র কার্যকর করতে আমরা আদিষ্ট। সুতরাং, আমি কোরআনের সুস্পষ্ট শর্ত বা নির্দেশনা ছাড়া শুধু শরিয়াবলে কোনো নাগরিককে শাস্তি দিতে পারি না। ’

এই শর্তগুলো বাস্তবায়নে তিনি ইসলামিক অনুশাসনের উৎসগুলোও (হাদিস, ফাতোয়া) পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তার এই আহ্ববান প্রচলিত ইসলামের সংস্কারে তার অভিলাষকেই প্রকাশ করে।

বিগত কয়েক বছর আগেও সৌদি সমাজে এই ধরনের বক্তব্যকে ঔদ্ধত্য হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। যার ফলে মোহাম্মদ আরকুন, মোহাম্মদ শাহরুর, ফরাজ ফুদা প্রমুখ উয়াহাবিজম বিরোধী সংস্কারবাদি মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের অনেককে নির্যাতন করা হয়েছিল, কারাবন্দী করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে এমবিএস বলেন, ‘শরিয়া আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে কোরআনের নির্দেশনাকেই প্রাধান্য দিতে হবে এবং মুতাওয়াতির হাদিসগুলোর (এমন হাদিস যার প্রতি স্তরে একাধিক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত এবং সত্যতা প্রশ্নাতীত) আমল নিতে হবে।

আহাদ-হাদিস (গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণিত কিন্তু বর্ণনাকারীর সংখ্যা মুতাওয়াতির হাদিসের সমান নয়) এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর সত্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা পরখ করা জরুরি আর ‘খবর’ হাদিসগুলোর (বর্ণনামূলক হাদিস যা নবী নির্দেশ করেননি কিন্তু বর্ণনাকারী নবীকে করতে দেখেছেন বা বলতে শুনেছেন) আমল একেবারেই করা উচিত নয়, যদি না এতে মানবতার কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে। শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে নবীকে (স.) আনুসরণ করতে হবে, কোরআনের সরাসরি নির্দেশনা না থাকলে কাউকেই ধর্মীয় বিষয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে না। ’

তিনি আরও বলেন, কোরআন এবং মুতাওয়াতির হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার পরও শুধু শরিয়ার অজুহাতে কাউকে শাস্তি প্রদান শরিয়তের অপপ্রয়োগই বটে। যখন আমরা কোনো দলের অন্তর্ভূক্ত হয়ে কোনো পণ্ডিত বা মনীষীর আনুসরণ করি, তখন আমরা তাকে দেবতুল্য করে ফেলি। যদিও আল্লাহ নিজের ও বান্দার মাঝে কোনো ব্যবচ্ছেদ রাখেননি। আল্লাহ নবী মুহম্মদের (স.) মাধ্যমে আমাদের কোরআনের শিক্ষা দিয়েছেন যার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সব যুগের জন্য উন্মুক্ত।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন