দেশবাসীর পক্ষে সরকারের কাছে ৪ দাবি মুফতী রেজাউল করীমের

প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২১

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ঋণনির্ভর বাজেটের মাধ্যমে দেশবাসীকে সুদের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, বাজেটের মূল অর্থ যোগানদাতা এনবিআর। গত অর্থ বছরে তাদের ওপরে দায়িত্ব ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা। এতে ব্যর্থ হওয়ায় তা সংশোধন করে ৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু এনবিআর ১০ মাসে সংগ্রহ করে মাত্র ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও যা ১লাখ ৩ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা কম।

তিনি বলেন, বাজেটের আয়ের উৎসের এই দুর্বলতা নিয়ে আগামী অর্থবছরে বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি এবং এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে আগের মত ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়ুন-

হেফাজতের নতুন কমিটিতে স্থান পেলেন যারা
হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি ঘোষণা
আল্লামা মামুনুল হকসহ হেফাজত থেকে বাদ পড়েছেন বিতর্কে জড়িতরা
অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তি চান হেফাজত মহাসচিব

এক বিবৃতিতে পীর সাহেব বলেন, বিশাল অংকের বাজেট দিয়ে অর্থমন্ত্রী গৌরববোধ করলেও সাধারণ জনগণ এর কতভাগ সুফল পাবে তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বাজেটে আয়ের উৎস না বাড়িয়ে এবং আয় প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা বৃদ্ধি না করে বাজেটের আকার বৃদ্ধি করা দেশকে ঋণ ও সুদের চক্রে ফেলে দেবে। সেজন্য আমাদের দাবী হল এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং জিডিপি কর রেশিও আদর্শ মেনে নিতে হবে।

১. অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি আটকাতে হবে- বাংলাদেশে বছর ঘুরলেই অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও বিদেশি ঋণের সুদ দিতেই বাজেটের বড় অংশ চলে যায়। এরপরেও আগামী অর্থবছরে ঋণ নেয়া হবে দুই লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে উচ্চ সুদের ঋণ নেওয়া হবে ৩২ হাজার কোটি টাকা। এভাবে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা ও ঋণের সুদ মেটানোর এক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিপাকে পড়ে যাচ্ছে দেশ।

আরও পড়ুন-

আরববিশ্বের নোবেল পুরস্কার খ্যাত শেখ জায়েদ পুরস্কার পেলেন প্রথম ভারতীয় নারী
নাবালক বয়সে বিয়ে ও মাদক রোধে প্রশিক্ষণ সভা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে খুলনায় ইশা ছাত্র আন্দোলনের মানববন্ধন

২. ব্যবসায়ীদের কর ছাড়- শুল্ক হারে ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনে সত্য, কিন্তু তার প্রধান শর্ত হলো ব্যবসায়ীরা সততার সাথে ব্যবসা করা। বাংলাদেশে আমরা তা দেখি না বরং ব্যবসার ছলে অর্থ পাচার ও দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অভিশাপ হয়ে আছে। সে জন্য আগামী অর্থবছরে ব্যবসায়ীদের কর ছাড়ের সাথে তাদের সততা নিশ্চিত করতে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

প্রসঙ্গত বেঁদে, আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে চাকরি দেওয়ার শর্তে ৫% কর ছাড়ের ঘোষণা ইতিবাচক কিন্তু এর সাথে রূপান্তরিত নারী পুরুষ এর চাকরির শর্ত যোগ করাকে আমরা ভাল নজরে দেখতে পারছিনা। প্রকৃতির বিকৃত সাধনকারী রূপান্তরিত নারী পুরুষদের আলাদা করে সুবিধা দেওয়া বাংলাদেশের নীতি-নৈতিকতার সাথে সাংঘর্ষিক। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর অবকাশের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক কিন্তু নতুন উদ্যোগক্তারা যে কোনো ঝামেলা মুক্তভাবে ঋণ পেতে পারে সেটি নিশ্চিত করা ও গুরুত্ব।

৩. কালো টাকা- কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সংকুচিত করায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। তবে এটা পুরোপুরি বন্ধ করা দরকার ছিল।

আরও পড়ুন-

ইশা ছাত্র আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের বাধা
ইসলাম গ্রহণ করলেন হিন্দু যুবক
স্ত্রীর অভিমানের কাছে হেরে গেলেন স্বামী

৪. এডিপি- আগামী পৃথিবীতে এমন সব প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে যা বিলাসী ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বা কর্মসংস্থানের সহায়তা করবে না। এটা হতাশাজনক। এই দুঃসময়ে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ, বাংলো ও সার্কিট হাউজ, পাঁচ তারকা হোটেল, পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ, ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন নির্মাণের মতো প্রকল্প করা হয়েছে। এটাও হতাশাজনক। একদিকে বাজেটের টাকা জোগাড় করতে সুদের ওপরে ঋণ নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ভবন, পার্ক ও হোটেল নির্মাণ করতে এডিপিতে প্রকল্প ঢোকানো হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি এবং এসব প্রকল্প এডিপি থেকে বাদ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আইএ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন