করোনা নিয়ন্ত্রণে এলাকাভিত্তিক ‘বিশেষ লকডাউন’

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২১

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে আবার কমছে- এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে। তবে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দেশব্যাপী চলমান লকডাউন বা বিধিনিষেধের মধ্যেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘বিশেষ লকডাউন’ বা কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কোনো অঞ্চলে বিধিনিষেধ আরোপ না করে সংক্রমণ সংশ্লিষ্ট এলাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের ১১টি জেলায় সংক্রমণ শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। এসব জেলার হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনসহ অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

চুয়াডাঙ্গা

জানা গেছে, সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় বেড়ে গেছে করোনার সংক্রমণ। এ জেলায় আক্রান্তদের বেশিরভাগের বাড়ি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন ও এর আশপাশে। সংক্রমণ ঠেকাতে তাই এখানকার ৭ গ্রাম তথা জাহাজপোতা, মুন্সিপুর, কুতুবপুর, শিবনগর, হরিরামপুর, পীরপুরকুল্লা ও হুদাপাড়া লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব গ্রামে কেউ প্রবেশ করতে পারবে এবং গ্রামের বাসিন্দারাও বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না।

নওগাঁ

আরেক সীমান্ত জেলা নওগাঁর নওগাঁ পৌরসভা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় ৭ দিনের বিশেষ লকডাউন আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। লকডাউন চলাকালে নওগাঁ পৌরসভা থেকে জেলার অন্যান্য উপজেলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধসহ ১৫ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

খুলনা

ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে খুলনা মহানগরীর ৩ থানায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুলনা সদর, সোনাডাঙ্গা ও খালিশপুরে আগামীকাল শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহের এই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। বিধিনিষেধ চলাকালে বন্ধ থাকবে সব দোকান-পাট।

রাজশাহী

করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কঠোর লকডাউন বা বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলাটিতে সব দোকান-পাট, মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

নাটোর

নাটোরেও হঠাৎ করে বেড়েছে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু। জেলায় সংক্রমণ ঠেকেছে ৫৩ শতাংশে। দুই দিন আগেও যা ছিল ২৫ শতাংশের মধ্যে। জেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি মাস্ক ছাড়া শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। এ ছাড়া সীমিত করা হয়েছে শহরের ছোট ছোট যানবাহন চলাচল। শহরের দোকান-পাটগুলোতে যাতে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হয়, সেজন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কেউ নির্দেশ না মানলে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সাতক্ষীরা

অন্যদিকে, আরেক সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী শনিবার থেকে গোটা জেলায় এই লকডাউন কার্যকর হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

এ ছাড়া সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আগেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফার লকডাউন শেষে দ্বিতীয় দফায়ও এক সপ্তাহের জন্য তা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে এখানেই প্রথমে লকডাউন আরোপ করা হয়।

 

এন.এইচ/

মন্তব্য করুন