বসুন্ধরার এমডির অপরাধের বিচার বাংলার মাটিতে আদৌ কি হবে? প্রশ্ন সুমনের

প্রকাশিত: ৮:২৪ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২১

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার (২১) আত্মহত্যার মামলার প্রধান আসামী বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর। এ মামলার এখনও কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। সম্প্রতি তিনি শেখ রাসেল ফুটবল ক্লাবে একশ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত আইনজীবী ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে সুমন বলেন, আনভীরের বিরুদ্ধে মামলার এখনও তদন্ত চলছে। এমন একটা সময়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু একজন সাংবাদিকও মুনিয়ার আত্মহত্যা নিয়ে তাকে কোনও প্রশ্ন করেননি যে, এই মামলায় আপনার অবস্থান কি? আপনি অপরাধ স্বীকার করবেন কিনা?

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, তারথেকেও বড় কথা হল, অন্যান্য দেশে এমন তদন্ত চলাকীলন মানুষ পদ থেকে রিজাইন করে আর বাংলাদেশে হয়েছে কি- অভিযুক্তকে সম্মানের সঙ্গে সুনামধন্য একটি ক্লাব শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের পরিচালক বানালো হল।

বাংলাদেশের কোনও একটা গণমাধ্যম আনভীরের অপরাধের নিউজ করেনি। এ ব্যাপারে সুমন বলেন, আমি আশ্চর্য হয়েছি যে, বাংলাদেশের কোনও একটা গণমাধ্যম আনভীরের অপরাধের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করল না। রোজিনা ইস্যুতে সাংবাদিকরা সরকারকে যে চাপে ফেলছে, মনে হয়েছে সরকার কিইনা করে ফেলছে! কিন্তু এই ইস্যুতে কেউ কোনও কথা বলেনি। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশে বিবেকবান সাংবাদিক আছে।

তিনি আরও বলেন, একজন ওসি যখন এটা জানবেন তখন তার তদন্তে অবশ্যই প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশে অনেকের বিচার হয়েছে। সাকা চৌধুরীর মতো লোকের বিচার হয়েছে। আমি সরকারকে বলবো, শুধু বিচার করলেই হবে না। মানুষকে দেখাতে হবে যে, দেশে ন্যায়বিচার হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষে সুমন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, পুরো একটা জাতি যখন একটা কোম্পানির কাছে এমন বন্ধক হয়ে যায় তখনই তো করোনা এসেছে। করোনা এমনি এমনি আসেনি। হাজারও মানুষের বিবেক যখন অচল হয়ে গেছে তখন একটা ন্যাচারাল ক্যালামিটি এসে মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আমরা এটা থেকে মুক্তি চাই। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর এই বাংলাদেশে এই ধরনের কাজ চলতে পারে না।

উল্লেখ্য, রাজধানীর গুলশানের আলোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। গুলশানের ওই বাসার মূল গেইটে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মুনিয়ার বাসায় বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের যাতায়াতের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আনভীর ব্যতীত ওই বাসায় আর কারও যাওয়া-আসা ছিল না।

ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমনের লাইভ ভিডিও

আইএ/পাবরিক ভয়েস

মন্তব্য করুন